বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে নন-টিচিং স্টাফের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারের উপর মানসিক ও মৌখিক নিপীড়নের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়-এর আরবি বিভাগের এক পিএইচডি স্কলার নন-টিচিং স্টাফের বিরুদ্ধে মানসিক ও মৌখিক নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গবেষক তাঁর এম.এ. পরীক্ষার সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য টানা পাঁচ দিন ধরে বিভাগীয় অফিসে উপস্থিত হলেও প্রতিবারই তাঁকে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অশিক্ষক অফিসার দেবাশীষ বসু প্রথমে বারবার “আজ হবে না”, “আগামীকাল আসুন”—এই ধরনের কথা বলে সার্টিফিকেট প্রদান এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার অফিসারের নির্দেশ অনুযায়ী পুনরায় সার্টিফিকেট নিতে গেলে তাঁকে তাচ্ছিল্যের সুরে প্রশ্ন করা হয়, “সার্টিফিকেট নিয়ে কী করবি!”

উত্তরে ওই গবেষক খানিকটা ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, “রান্না করব।”
এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। গবেষকের দাবি, দেবাশীষ বসু তাঁকে প্রকাশ্যে অপমান করে ‘মানসিক রোগী’ বলে সম্বোধন করেন। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ জানালে তাঁকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, “আমি স্থানীয় লোক, তোর ব্যবস্থা করছি।”
অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পূর্বেও একাধিক ছাত্রছাত্রীকে একইভাবে অপমান ও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। পাশাপাশি, অফিসের ভিতরে প্রায়শই বিতর্কিত সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক এবং জাতি বিদ্বেষমূলক আলোচনা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে।
ঘটনার ভিডিও প্রমাণ অভিযোগকারীর কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষামহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

