আন্তর্জাতিক 

বিএনপি’র বিপুল জয়ের নেপথ্য কারণ?

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে ২১০ টি আসন পেয়েছে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল। সব মিলিয়ে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমানের এই বিজয় খুব সহজে আসেনি। আসলে এটা খুব পরিষ্কার শেখ হাসিনা ওয়াজেদের তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিলেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের আম জনতার উন্নয়নে খালেদা জিয়ার ভূমিকা নিঃসন্দেহে ইতিহাস হয়ে রয়েছে।

কিন্তু শেখ হাসিনা যেভাবে খালেদা জিয়াকে জেলে পুরে রেখেছিলেন। বিরোধী দলনেত্রীর প্রতি সামান্যতম সহানুভূতি দেখেননি তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই নির্বাচনে। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং তার মৃত্যুকে ঘিরে হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সবটাই বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করেছে। বিএনপিকে তারা ক্ষমতাই এনে প্রমাণ করেছে যে মানুষের জনতার দরবারে বিএনপি এখনো জনপ্রিয়। বাংলাদেশের প্রাক্তন মরহুম জননেত্রী খালেদা জিয়া এখনো জনপ্রিয় এটা প্রমাণিত হয়েছে। নাহলে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্ত ছিলেন না। মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে একটি লন্ডন থেকে ঢাকাতে এসেছিলেন তারপর থেকে তিনি এখানে থেকে যান এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। লন্ডন থেকে এলেন দেখলেন আর জয় করে নিলেন বাংলাদেশের মানুষের মন এটা খুব সহজ ছিল না এর পেছনে ছিল খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগ তার প্রতি শেখ হাসিনার বিদ্বেষ মূলক আচরণ সপ্তারই জবাব দিয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক।

Advertisement

বিএনপি’র এই বিপুল জয়ের পেছনে মূলত বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকরা বেশিরভাগ অংশ প্রায় ৯২% মানুষ মুসলিম হলেও তারা কেউ মৌলবাদের সমর্থক ছিল না। জামাতে ইসলামি বাংলাদেশ বহুদিন থেকে ইসলাম ধর্মের আদর্শ নীতি প্রচার করা  সত্বেও তারা সেভাবে জনমানষের দাগ কাটতে পারল না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ মনে করেছে ইসলামিক শাসনের চেয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। দ্বিতীয়তঃ বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মহিলা আর এই মহিলাদের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তৃতীয়ত বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সংখ্যা ৮% এই হিন্দু সম্প্রদায়ের সব ভোট পেয়েছে বিএনপি কারণ তাদের কাছে বিকল্প আওয়ামী লীগ ছিল না। চতুর্থ সাধারণ মানুষ মনে করেছে তারেক রহমানের হাতেই বাংলাদেশের নিরাপদ। কারণ এবারের নির্বাচনে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি ছিল সবার আগে বাংলাদেশ। খানিকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কায়দায় সবার আগে আমেরিকার প্রচারে যেমন বলেছিলেন ফাস্ট আমেরিকা লাস্ট আমেরিকা ঠিক সেরকমই তারেক রহমান নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সবার আগে বাংলাদেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য তিনি সবকিছু করতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে তারেক রহমান আরেকটা প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন বদল হবে বদলা হবে না। ফলে আওয়ামী লীগের যে সকল নেতা কর্মীরা বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে পারেননি তারা বিএনপি’র প্রতি আস্থা রেখেছে। এখন দেখার বিষয় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি কিভাবে বাংলাদেশকে সবার আগে রাখেন কিভাবে তার নীতি নির্ধারণ করেন সেদিকে সজাগ দৃষ্টি থাকবে আমাদের। অন্যদিকে তারেক রহমানের এই জয়কে ঘিরে আওয়ামী লীগ পন্থী কিছু ব্যক্তি কিছু সাংবাদিকদের যে উৎসাহ প্রকাশ করছে তাদের সেই উৎসাহ যে খুব শিগগিরই ভাটা পড়বে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কারণ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই কয়েক মাস ধরে ভারত বাংলাদেশের যে সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে তাকে উন্নতি করাটা বাংলাদেশের কাছে প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হবে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মৌলবাদ বিরোধী অবস্থান নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক এবং অভিনন্দন যোগ্য। দীর্ঘ ১৭ বছর দেশ থেকে বাইরে থাকার পর তারেক রহমান ফিরে এলেন এবং বাংলাদেশের মানুষ তাকে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী করেছেন এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশের মানুষের সেই সম্মানকে তিনি কতটুকু রক্ষা করতে পারেন। তারেক রহমান নিঃসন্দেহে তার এই বিপুল জয়ের পর একান্তে বসে চোখের সামনে ভেসে আসছে চিকিৎসাহীন ভাইয়ের লাশ চোখের সামনে ভেসে আসছে খালেদা জিয়ার তিল তিল করে ক্ষয়ে যাওয়া জেলের ভিতরে তার প্রাণটা এরপরেও যারা ভাবছেন হাসিনার সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করবেন তারেক রহমান সেটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ বলবে?


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ