অন্যান্য কলকাতা 

জলাভূমি দিবস – ভাবনা ও দায়িত্ব / নায়ীমুল হক

শেয়ার করুন

বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথোপকথনের নির্যাস তুলে ধরেছেন নায়ীমুল হক।

▪️আজ ২ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব জলাভূমি দিবস। এ বছর এই দিবসের থিম কী?
➖এ বছর বিশ্ব জলাভূমি দিবসের থিম হল “জলাভূমি এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন।”

Advertisement

▪️একটু বিস্তারিত যদি বলেন।
➖জলাভূমি আমাদের ইকোসিস্টেমের এক অপরিহার্য অংশ যা বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জল পরিশোধন এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

▪️ বিশ্ব জলাভূমি দিবসের তাৎপর্য কি?
➖এই বিশেষ দিনে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে যে শপথগুলো নেওয়া উচিত, তা হল– জলাভূমি বাঁচিয়ে রাখতে হবে, তার শপথ। যেকোনো মূল্যে আমাদের চারপাশের জলাশয়, পুকুর বা বিল ভরাট বন্ধ করা এবং এগুলোকে দূষণমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করতে হবে। সঙ্গে অভ্যাস করতে হবে জলাভূমিতে সরাসরি প্লাস্টিক বা কোনো তরল বর্জ্য না ফেলার।

▪️জলাভূমির সংরক্ষণে ও জলের অপচয় রোধ করতে কি কি করা যেতে পারে?
➖ জলাভূমির সংরক্ষণে সমাজের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। এ ছাড়াও দৈনন্দিন জীবনেও জলের অপচয় নিয়ে আমাদের সচেতন হওয়ার দিন এসেছে। হাত ধোয়া, ব্রাশ করার সময় প্রচুর জল অপচয় হয়, এছাড়াও স্নান ও টয়লেট ব্যবহারে জলের পরিমিত ব্যবহার শিখতে হবে। বৃষ্টির জল ধরে রেখে তা ধোয়া-মোছার কাজে ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। Rainwater Harvesting পদ্ধতিতে বৃষ্টির জলের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

▪️ প্রায়শই শোনা যায় এবং দেখাও যায় বিভিন্ন এলাকায় জলাভূমি বুঝিয়ে ফেলা হচ্ছে। এটা কতখানি আমাদের জন্য উদ্বেগজনক?
➖জলাভূমি বুজিয়ে ফেলার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে জলাভূমি বনের চেয়েও ৩ গুণ দ্রুত হারে হারিয়ে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ জলাভূমি হারিয়ে গেলে শহরের জলনিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এছাড়া এটি আঞ্চলিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা Heat Island Effect তৈরি করে।

▪️বাড়ির পাশের জলাভূমিতে আমরা নোংরা আবর্জনা ইত্যাদি ফেলি। ভবিষ্যৎ আমরা কীভাবে নষ্ট করছি?
➖ বাড়ির পাশের জলাভূমিতে বর্জ্য ফেলা মানে নিজের জলের উৎসকে বিষাক্ত করা। প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে, যার ফলে মাছের অভাব দেখা দেয় এবং জলবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে।

▪️আজ বিশ্ব জলাভূমি দিবসে আরাবল্লী প্রসঙ্গ আসা কি খুব স্বাভাবিক না?
➖বিশ্ব জলাভূমি দিবসে আরাবল্লী প্রসঙ্গ অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে এসে পড়ে। জলাভূমি বলতে যেমন শুধুমাত্র দৃশ্যমান জল বা জলীয় অংশটুকুই বোঝায় না। বোঝায়, জল-স্থলের মধ্যবর্তী অঞ্চলকেও, যেখানে এরা মিলেমিশে একাকার– পুকুর, হ্রদ, প্লাবনভূমি, ম্যানগ্রোভ, বন, নোনা জলের মাঠ, ধানক্ষেত সবকিছু। তেমনই বর্তমান উচ্চতা ও বিস্তৃতির বিবেচনায় পর্বতের সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত নাও হতে পারে আরাবল্লী, তবু আরাবল্লীকে ছুঁয়ে যাদের রোজগার জীবন যাপন, ভুত-ভবিষ্যৎ, তাঁদের কাছে আরাবল্লী ‘পর্বতের’ চেয়েও বড়। আর শুধুই কী প্রকৃতিতে সুন্দর দৃশ্যপট তৈরি করাই পাহাড়-পর্বতের কাজ! নিশ্চয়ই না, পাহাড়, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি সবকিছুতে থাকে এক অদেখা নিয়মে বাঁধা পরিবেশের অমোঘ বৃহত্তর স্বার্থ। সব মিলিয়েই হয় পরিবেশ-প্রকৃতি। গভীর জঙ্গলে কাউকে না জানিয়ে চুপিচুপি গাছ কাটলে সবার আগে খবর পেয়ে যায় নদীর জলে বয়ে যাওয়া ছোট বড় পাথরের টুকরোরাও। তাদের অভিমান জমা হয় মানুষের প্রতি। আরাবল্লীর ক্ষেত্রেও পৃথিবীর সকল অভিমান জমা হবে ঠিক সময়ের হাত ধরে। তখন কিন্তু ফলাফলটা ঠিকই উঠিয়ে নেবে সুদে-আসলে! সেই ফলাফল মোকাবেলা করতে প্রস্তুত হতে পারবে তো আরাবল্লীর নিধনকারীরা! এই প্রশ্ন কিন্তু বিশ্ব জলাভূমি দিবসে উত্থাপিত হওয়া অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ