কলকাতা 

যাদবপুরে এনপ্রপেল-এর কেরিয়ার কর্মশালা–কর্মসংস্থানের জন্য দুর্ভাবনা নয় বরং কর্মের সংস্থান তৈরি করবে আগামী প্রজন্ম

শেয়ার করুন

নায়ীমুল হকের প্রতিবেদন: কেবলমাত্র পরীক্ষার ফলেই নয়, ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন থাকতে হবে, তারা যেন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলী অর্জন করতে পারে। ব্যাস্, তাহলেই কর্মসংস্থান নিয়ে তাদের আর ভাবনা নেই বরং কর্মের সংস্থান যোগাবে তারাই। হ্যাঁ আগামী দিন এরকমই হতে চলেছে, আর তার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে আমাদের এবং পরবর্তী প্রজন্মকে। এই বার্তা নিয়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শনিবার এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা– কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন ও কেরিয়ার। আয়োজন করেছিল এনপ্রপেল, পড়াশোনার পর চাকরির প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়ে যারা চ্যালেঞ্জ নিতে শেখাতে চায় আগামী প্রজন্মকে।

এই সংস্থার কর্ণধার বিশিষ্ট সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত ভট্টাচার্য বলেন, আগামী প্রজন্মকে ভিন্নমুখী কর্মসংস্থানের ধারণা, সুযোগ ও দিশা দিতেই বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে সম্মিলিত এই উদ্যোগ। ক্লাসরুমের শিক্ষা কী করে ছাত্র-ছাত্রীকে শিল্প ভাবনায় অনুপ্রাণিত করবে, তাদেরকে আরো বেশি দক্ষ করে তুলবে, এটাই এনপ্রপেল আগামী প্রজন্মের জন্য ভাবতে চায়, যা ভেবেছিলেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের মতো প্রথিতযশা বাঙালি বিজ্ঞানীরা। প্রতিটি প্রান্তিক অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দিতে চান তাঁদের এই বার্তা। অন্যান্যদের সঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র ছাত্রীরা এদিন উপস্থিত হয়েছিলেন এই কর্মশালায়। তাঁদের প্রতিনিধি শেষ বর্ষের ছাত্র ময়ূখ সরকার বলেন, এই ধরনের কর্মশালা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।

Advertisement

এদিনের কর্মশালায় ‘ক্লাসরুম টু ক্যারিয়ার’ প্যানেল ডিসকাশনে অংশ নেন মহুয়া বাগচী, ডঃ জগদীশ কুন্ডু, ডঃ রাকেশ কুমার সিং, স্বপন কুমার সতপথী, ভাস্বতি ভট্টাচার্য প্রমূখ। আলোচনা প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, আগামী প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎস্যু মন, সৃজনশীলতা, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে আমাদের। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি ঘরের মা-বাবাদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। জীবনে চলার পথে এক-আধবার ব্যর্থতা আসতেই পারে, এগুলিকে ব্যর্থ হিসেবে না ধরে সাফল্যের সোপান হিসেবে ধরতে পারলেই, সফলতা আসতে বাধ্য। এই মাইন্ডসেট তৈরি করে এগিয়ে গেলে আগামী প্রজন্ম আমাদের সমাজের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে বলে মত প্রকাশ করেন এদিন উপস্থিত শিক্ষা ও শিল্প জগতের গুণীজনেরা।

এদিনের কর্মশালায় উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধান সোসাইটির সম্পাদক গৌরাঙ্গ সরখেল এনপ্রপেল-এর এই উদ্যোগকে সমর্থন জানান এবং আগামী দিনে বাঁকুড়া-পুরুলিয়া সহ উত্তরবঙ্গে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দেন। এদিন নীলাদ্রি ব্যানার্জীর সুন্দর সঞ্চালনা কর্মশালাটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ