শিক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙে মুর্শিদাবাদকে লেবারের রাজধানীতে পরিণত করা হয়েছে : হাকিকুল ইসলাম
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, মুর্শিদাবাদ : আজ মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ বিধানসভার গোলাপবাগ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় বৈষম্য বিরোধী সমাবেশ। হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এই সমাবেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিবাদে পরিণত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন SDPI-এর রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, রাজ্য সম্পাদক মাসুদুল ইসলাম, জাতীয় সম্পাদিকা রুনা লাইলা, দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আব্দুল করিম মন্ডল, জেলা সাধারণ সম্পাদক আসিব সেখ, সম্পাদক আলী আকবর সিদ্দিকী, মুর্শিদাবাদ বিধানসভার সভাপতি মোঃ মালেক সেখ সহ একাধিক নেতৃত্ব।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম বলেন— মুর্শিদাবাদের সঙ্গে প্রথম বৈষম্য শুরু হয়েছে শিক্ষা ক্ষেত্র থেকেই। জাতিগত বৈষম্য প্রেক্ষিতে শিক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙে মুর্শিদাবাদকে লেবারের রাজধানীতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। পাশাপাশি লালবাগ কলেজের নাম নবাব সিরাজউদ্দৌলার নামে না রাখা এই জেলার ইতিহাস ও আত্মমর্যাদার প্রতি অবিচার। সুভাষচন্দ্র বসু বেঁচে থাকলেও তিনিও নবাবের নামেই কলেজের নাম রাখতে বলতেন।
তিনি শাসকদলের নেতাদের কটাক্ষ করে বলেন,“মানুষ দু’হাত ভরে ভোট দিলেও আজও মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ হয়নি, নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান হয়নি। এই ভূমিকা দেখে জগত শেঠ’ ‘রায় দুর্লভ’ ও মীরজাফরও লজ্জা পেত।”
তিনি দাবি করেন, SDPI-এর আন্দোলনের ফলেই কাবিলপুরের রাস্তা ও গড়াইমারী হাসপাতালের কাজ শুরু হয়েছে এবং সরকার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে বাধ্য হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন— আজ এমন অবস্থা যে বাঁ পা ভাঙলে ডান পায়ে অপারেশন হচ্ছে। শিক্ষকের অভাবে স্কুল বন্ধ হওয়ার মুখে। অবিলম্বে অন্তত ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন— মিড-ডে মিলের খাবার পথকুকুরদের দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও un-aided মাদ্রাসাগুলোকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
জাতীয় সম্পাদিকা রুনা লাইলা ব্রাহ্মণ্যবাদী ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই রাজনীতি সফল হলে দেশে আবার বর্ণাশ্রম ও সামাজিক বৈষম্যের অন্ধকার যুগ ফিরে আসবে।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে আব্দুল করিম মন্ডল SIR-এর নামে সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রতিবাদ জানান।
রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম বলেন, নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে SDPI কলকাতার রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।

