কলকাতা 

‘‘বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখিনি’’ : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শেয়ার করুন

ইডির তল্লাশির মাঝে আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ির পরে বৃহস্পতিবার সংস্থার সল্টলেকের দফতরেও পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা। তিনি জানান, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশলের তথ্য ‘ট্রান্সফার’ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তাই তাঁর মতে ইডির এই হানা ‘অপরাধ’।

তিনি আঙুল তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে, যাঁর দফতরের অধীনে রয়েছে ইডি। তাঁকে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীকে। তার পরেই মমতা আবার ঢুকে যান আইপ্যাকের দফতরে। তার আগে বলেন, ‘‘যত ক্ষণ প্রতীক না আসছেন, যত ক্ষণ প্রতীক এসে অফিসে শেটল না-করছেন, তত ক্ষণ আম এখানে অপেক্ষা করব।’’

Advertisement

সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তখনও ইডির তল্লাশি চলছে। সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ির মতোই আইপ্যাকের অফিস থেকেও ফাইলের গোছা নিয়ে বেরিয়ে যান পুলিশকর্মীরা। সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতর যে ভবনে রয়েছে, তার বেসমেন্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বলেন, ‘‘ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে। লড়াই করার সাহস হচ্ছে না, এখন লুট করতে নেমেছে। হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতিক কাগজ, পার্টির কাগজ নিয়ে নিয়েছে।’’ এর পরেই তিনি আঙুল তোলেন বিজেপির দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখিনি।’’

এখানেই থামেননি মমতা। তিনি বলেন, ‘‘ভোর থেকে অপারেশন চালু করেছে। সকাল ৬টার সময়ে এখানে (আইপ্যাকের দফতর) শুরু হয়েছে। আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে মেনে নেব না।’’ তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে এর পরে বলেন, ‘‘আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দিই? সেটা ঠিক হবে?’’ আইপ্যাকের কর্ণধার এবং দফতরে ইডি অভিযান নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার বিকালে রাজ্য জুড়ে সব ব্লকে মিছিল, ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিল হবে লুটের বিরুদ্ধে।’’

এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী আবার অভিযোগ করে বলেন, ‘‘পার্টির কাগজপত্র নিয়ে চলে গিয়েছে। টেবিলগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে।’’ কেন এই অভিযান হয়েছে, সেই প্রশ্নের জবাব মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি যখন খবর পেলাম যে এজেন্সি এসেছে, তখন খোঁজ নিলাম কেন এসেছে। তার পর শুনি আমাদের দলের ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি লুট করতে এসেছে। এটা গণতন্ত্রে হতে পারে না। পার্টি অফিসে ঢুকে এটা করা যায় না। তার পর আমি আসার সিদ্ধান্ত নিই।’’

ইডি-র দল আইপ্যাক-এর দফতরে যখন থেকে তল্লাশি শুরু করে তখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছিল। তার পরেই সেখানে বাহিনী বাড়াতে শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটও। মমতা যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ে। পাল্লা দিয়ে বাহিনী বাড়ায় বিধাননগর পুলিশও।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রতীকের বাড়ি এবং আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান মমতা। গাড়ি থেকে নেমে তিনি ঢুকে যান প্রতীকের বাড়িতে। কয়েক মিনিট পরে একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি থেকে বেরোনোর পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল! আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি।”

প্রতীকের বাড়ির সামনে থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, “উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন! আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ও আমার দলের ইনচার্জ। ওরা হার্ড ডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নিচ্ছিল।”

সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার ।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ