টালিগঞ্জ স্টেশনে ঢোকার আগেই থমকে গেল মেট্রো, বন্ধ হয়ে গেল কামরার এসি এবং বিদ্যুৎ! আলো বাতাসহীন রেকে দম বন্ধ পরিস্থিতি, বিক্ষোভে ফেটে পড়লো যাত্রীরা
কলকাতার মানুষ যখন নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন জায়গায় বেড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিক তখনই রবিবার সকালে ঘটে গেল মেট্রো পরিষেবায় বিঘ্ন। রবিবার সকালে টালিগঞ্জ স্টেশনে ঢোকার ঠিক আগেই সুরঙ্গেই থমকে গেল মেট্রো।
মেট্রোর ড্রাইভারের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাত্রীরা জানতে পারেন খারাপ হয়েছে রেক। যাত্রী বোঝাই মেট্রোর কামরায় বন্ধ হয়ে যায় এসি। কারেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভিতরে যাত্রীরা সমস্যায় পরে। বার বার দরজা খুলে দিতে বললেও শোনা হয়নি কথা। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। দরজা খোলার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন রেকের মধ্যেই। এই সময় আপতকালীন দরজা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। অনেককেই দরজা ভেঙে ফেলার হুমকি দিতে শোনা যায়। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। দক্ষিনেশ্বর থেকে ময়দান পর্যন্ত চালু রয়েছে পরিষেবা। যদিও ডাউন লাইন চালু রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে মেট্রোর প্রথম কামরার একটি অংশ স্টেশনে প্রবেশ করার পরেই এই ঘটনা ঘটে। রেক সারাই করে নতুন করে চালানো সম্ভব না হওয়ায় আটকে থাকা যাত্রীদের বের করে আনা হয় রেক থেকে। ভিতরে আটকে থাকা যাত্রীদের ট্রেনের ভিতর দিয়েই সামনের দিকে আগিয়ে আস্তে বলা হয়। এরপরে যে অংশ স্টেশনে পৌঁছেছিল সেই দরজা দিয়ে যাত্রীদের সকলকে বের করে আনা হয়।
ব্যস্ত সময়ে ব্লু লাইনের মেট্রোয় গোলযোগ এখন নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা। কিছুদিন আগেই, সুরঙ্গে আটকে পড়ে মেট্রোর রেক। তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। সন্ধ্যায় মেট্রোর একটি ডাউন লাইনের ট্রেন মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশন ছেড়ে নেতাজি স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ নিজে থেকেই পার্কিং ব্রেক সক্রিয় হয়ে যাওয়ায় সুরঙ্গের মাঝেই আটকে যায়। এটি মেট্রো রেকের একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু আচমকা মেট্রো টানেলে আটকে যাওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয় যাত্রীদের মধ্যে। রেকের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। বন্ধ হয়ে যায় উত্তম কুমার থেকে কবি শহীদ ক্ষুদিরাম মেট্রো চলাচল। তৃতীয় লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কর্মীদের ঘটনাস্থলে হেঁটে গিয়ে ত্রুটির কারণ চিহ্নিত করতে হয়। সৌজন্যে ডিজিটাল সংবাদ প্রতিদিন।

