দেশ 

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ফের শপথ নিতে চলেছেন নীতীশ কুমার! এনডিএ জোটের বৈঠকে সবুজ সংকেত!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে আগামী ২০ নভেম্বর শপথ নিতে চলেছেন ফের নীতিশ কুমার। যদিও অমিত স্যার থেকে শুরু করে বিজেপির অনেক বড় নেতারা নীতিশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাতে রাজি ছিলেন না। গতকাল শনিবার নীতিশ কুমার তার দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেই বৈঠকের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন সিদ্ধান্ত খুব তাড়াতাড়ি নেন। তিনি নরেন্দ্র মোদিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন আমার প্রতি বিশেষ কোনো সহানুভূতি দেখাতে হবে না আপনারা যদি মনে করেন বিজেপির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে তাহলে তার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হোক।

নিতিশ কুমার এর এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের পরে দ্রুত বৈঠকে বসে এনডিএ জোটের নেতারা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় কেন্দ্রীয় সরকারের স্বার্থে আপাতত নীতিশ কুমারকে বিহারের কুরসী দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে ৬ জন এমএলএ পিছু একজনকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে। সেইমতো ১৪ থেকে ১৫ টি মন্ত্রিত্ব পেতে চলেছে বিজেপি, ১৪ টি মন্ত্রীপদ পেতে চলেছে জনতা দল ইউনাইটেড, তিনটে মন্ত্রী পদ পেতে চলেছে, চিরাগ পারসনের দল, বাকি জিতেন রাম মাঝি এবং উপেন্দ্র কুশ্বাহারাদের দলের পক্ষ থেকে একজন করে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাবেন। মনে করা হচ্ছে আগামী ২০শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার পার্টনার গান্ধী ময়দানে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। তবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সময়সীমা সবকিছুই নির্ভর করছে, প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচির উপর।

Advertisement

বিহারের মানুষ নীতিশ কুমার ফের মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিলে খুশি হবেন বলেই মনে হয়। কারণ বিহারের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিক্ষোভ রয়েছে, তারা মনে করছেন আমরা বিজেপিকে ভোট দিইনি। তারপর কোন অংকে বিজেপি এত বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করলো। সূত্র মারফত খবর পাওয়া গেছে বিহারের বিভিন্ন গ্রামের এখন সেনাবাহিনীর লোকেরা টহল দিচ্ছে। ভোট গণনার দিন গ্রামবাসীদের কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নিতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেয়ার পর এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন। অন্যদিকে আবার বিজেপির কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারুর নীতিস কুমারের মতো একজন ঝানু রাজনীতিবিদ কে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসিয়ে দিলে এই মুহূর্তে তিনি যে বড় কোন ঘটনা ঘটিয়ে দেবেন না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর ছিল নীতিশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বিজেপি মেনে না নিলে তিনি অন্য পথে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করবেন। এদিকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাওয়ার পর তিনি যে বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে বেশি দিন চলবে না বিহারে সেটাও আগামী দিনের স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়বে।

 

কোনও টালবাহানা নয়, কোনও টানাপোড়েন নয়। বিহারে সরকার গঠনের ফর্মুলা চূড়ান্ত করে ফেলল এনডিএ জোট। সূত্রের খবর, ফের বিহারের কুরসিতে বসতে চলেছেন নীতীশ কুমার। তবে আগের বারের মতোই সবচেয়ে বেশি মন্ত্রক যাচ্ছে বিজেপির দখলে। প্রাথমিকভাবে বিহার বিজেপির কিছু নেতার এই ফর্মুলায় আপত্তি থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে নীতীশকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদে মেনে নিয়েছেন তাঁরা। এমনটাই সূত্রের খবর।

সূত্রের খবর, শনিবার অমিত শাহর উপস্থিতিতে এনডিএ নেতারা গোপন বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানেই ঠিক হয়েছে ফের নীতীশকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। ভোটের আগে অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদি দুজনেই বলেছিলেন, নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে লড়বে এনডিএ জোট। কিন্তু ভোটের পর তাঁকেই ফের মুখ্যমন্ত্রী করা হবে কিনা, সেটা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের কিছু নেতা চাইছিলেন এবার অন্তত বড় শরিক হিসাবে কুরসি তাঁদের দখলে যাক। কিন্তু ভোটের যা ফল তাতে নীতীশকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই তাঁকেই নেতা করা হচ্ছে। তবে উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়ে কোনও ফর্মুলা এখনও ঠিক হয়নি।

মন্ত্রিসভার বণ্টন অবশ্য একপ্রকার ঠিক হয়ে গিয়েছে। এনডিএ নেতারা ঠিক করেছেন, প্রতি ছ’জন বিধায়ক পিছু একজন করে ক্যাবিনেট মন্ত্রী করা হবে। সেই ফর্মুলা অনুযায়ী, বিজেপি থেকে মন্ত্রী হতে পারেন ১৫ জন। ১৩-১৪টি মন্ত্রক পেতে পারে নীতীশের জেডিইউ। চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি(আর) থেকে ৩ জন মন্ত্রী হবেন। একটি করে মন্ত্রক পাবে জিতন রাম মাঝির হাম ও উপেন্দ্র কুশওয়াহার আরএলএম।

সব ঠিক থাকলে ১৯-২০ নভেম্বর ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন নীতীশ। তার আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব পাশ করে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হবে। এবং জেডিইউ সুপ্রিমো ইস্তফা দেবেন। তারপর ফের শপথ হবে পাটনার গান্ধী ময়দানে। সেখানে এনডিএ শাসিত সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-উপমুখ্যমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে শপথের দিন চূড়ান্ত হবে প্রধানমন্ত্রীর সূচি অনুযায়ী।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ