শিক্ষার রূপান্তর হলে তবেই সমাজের বদল হবে : শহীদুল্লাহ মুন্সী
সেখ ইবাদুল ইসলাম : শিক্ষাকে আত্মস্থ করতে হবে জীবনের সঙ্গে। শিক্ষক সমাজের প্রথম এবং শেষ দায়িত্ব হল শিক্ষাকে রূপান্তরিত করা। শিক্ষক যা শিখেছে সেটাকে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আর ভালোভাবে পৌঁছে দিতে পারলে সমাজের বদল আসবে। বৃহস্পতিবার ছয় নভেম্বর কলকাতার মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের অডিটোরিয়ামে টাটা ট্রাস্ট ও বিক্রমশিলা এডুকেশনাল রিসার্চ সোসাইটির উদ্যোগে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ে একদিনের রিভিউ মিটিং এর উদ্বোধন করতে গিয়ে এই কথাগুলি বলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ও ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান বিচারপতি শহিদুল্লাহ মুন্সী। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মধ্যে সার্বিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটান। একই সঙ্গে শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করে তুলতে হবে। আমাদের মত সকল অভিভাবকের ইচ্ছা থেকে ছেলে মেয়েদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার করতে। কিন্তু ছেলে মেয়েরা কি সেটা হতে চাইছে সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে? যদি কোন ছেলে মেয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে না চাই তবে তার মধ্যে যে প্রতিভা আছে সেই প্রতিভার বিকশিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

বক্তব্য রাখছেন প্রাক্তন বিচারপতি শহিদুল্লাহ মুন্সী
এরপর বক্তব্য রাখবেন পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তাহের কামরুদ্দীন বলেন, শিক্ষা মানে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয় সেটাকে বাস্তব জীবনে হাতে-কলমে কাজে লাগাতে হবে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ বিক্রমশিলা এডুকেশন বিষাদ সোসাইটি এবং টাটা ট্রাস্টের মাধ্যমে আমরা বেশ কয়েকটি মাদ্রাসাকে বেছে নিয়ে শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে কাজ করে চলেছি। তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসির পাশাপাশি স্টেট এডুকেশন পলিসিকে মাদ্রাসাগুলিতে যথাযথভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে আমরা দুই সংস্থার সঙ্গে কাজ করছি যাতে ভালোভাবে এগুলোকে বাস্তবায়ন করা যায়। তিনি বলেন গণিতের প্রাথমিক শিক্ষা বাদ দিতে হবে ভালোভাবে একই সঙ্গে লাইব্রেরী ক্লাসের মধ্য দিয়ে পাঠের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে।


বক্তব্য রাখছেন মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তাহের কামরুদ্দিন।
ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিজ্ঞান প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি করার জন্য বিজ্ঞানের উপকরণগুলিকে কাজে লাগাতে হবে বলে মাদ্রাসা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ড আবু তাহের কামরুদ্দীন উপস্থিত মাদ্রাসার প্রধানদেরকে আহবান জানান।
টাটা ট্রাস্ট এর পক্ষে কিশোর ডারাক বলেন,অন্যান্য স্কুলের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার চেয়ে অধিকার আছে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদেরও গুণগত শিক্ষার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। দেশের সমস্ত সরকারি স্কুলে যেসব ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করছে তাদের সম্পর্কে একটি আলাদা ধারণা রয়েছে তাদের পড়াশোনার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সেই প্রশ্ন দূর করার জন্যই আমরা মাদ্রাসার শিক্ষা সংযুক্ত হয়েছি। মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে ক্রিয়েটিভ ধারণা তৈরি করাও আমাদের মূল লক্ষ্য।

বক্তব্য রাখছেন বিক্রমশিলা এডুকেশনাল ট্রাস্টের ডিরেক্টর শুভ্রা চ্যাটার্জি
বিক্রমশিলা এডুকেশনাল ট্রাস্টের ডিরেক্টর শুভ্রা চ্যাটার্জি বলেন, মাদ্রাসা শব্দের অর্থ তালিম বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমরা এক বছর ধরে এই কাজ শুরু করেছি কতটা সফল হয়েছে তা এখনই বলা যাবে না আরো এক বছর কাজ করার পর আমরা আশা করব ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে একটা ভালো দিক উঠে আসবে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে পরিচালনা করেন পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসার শিক্ষা পর্ষদের ডেপুটি সেক্রেটারি অ্যাকাডেমিক ড. আজিজার রহমান। তিনি খুব সুন্দর ভাবে মাদ্রাসার শিক্ষার নানা দিক তুলে ধরেছে একইসঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষাকে আরো গুণগত উন্নত মানের করার জন্য কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদের কি কি ভূমিকা থাকতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এদিনের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিক্রমশিলা রিসার্চ এডুকেশনাল সোসাইটির পক্ষে সত্য গোপাল দে, অর্পিতা ঘোষ, শামীমা খাতুন প্রমুখ। এই দিনের সভায় হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা মিলে ১০০ জন মাদ্রাসার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

