নিরব সমাজসেবক আফতাব উদ্দিন সরকার
সংবাদদাতা বাংলার জনরব: ধর্মনিরপেক্ষ, উদার মানসিকতার নিরব সমাজসেবক প্রয়াত আফতাব উদ্দিন সরকারের এক ভাবগম্ভীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় কলকাতা বীরেশ গুহ স্ট্রিট এ অবস্থিত হুমায়ুন কবির ইনস্টিটিউটে গত ২ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যায়। উল্লেখ্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বার্ধক্যজনিত কারণে কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন।
নিউজ পোর্টাল বাংলার জনরব আয়োজিত এই স্মরণসভায় বাস্তববাদী সেখ আফতাব উদ্দিন সরকারের বর্ণময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন উপস্থিত গুণমুগ্ধরা। বিশেষ করে সমস্যা জর্জরিত পিতার সংসারের গুরু দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে গিয়ে মাঝপথে জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের চাকরিতে যোগদান করে পাশাপাশি শুরু করেছিলেন ছোট ব্যবসা। দূরদর্শীতা ও দক্ষতায় তিনি অচিরেই নিজেকে একজন সফল শিল্পপতিতে পরিণত করেছিলেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে নিজেকে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সমাজের গরিব মানুষের দুঃখ দুর্দশা তাঁকে সর্বদা তাড়িয়ে বেড়াত । চিন্তা করতেন তাঁর সাধ্য অনুযায়ী গরিব মানুষের উপকার করার কথা। আর এই উদ্দেশ্য কে সামনে রেখেই তিনি সমাজের গরিব ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া এবং চিকিৎসার জন্য সাহায্য সহযোগিতা আর্থিক করে যান। জন্মভূমি হুগলীর বালিপুরে গরিব ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য স্থাপন করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। লোকচক্ষুর আড়ালে তিন্নি সাহিত্য চর্চাও করতেন নিয়মিত। নিজ ধর্ম ইসলামের আদর্শ ইসলাম ধর্মাবলম্বী সর্বসাধারণের ( মোমিন) কিভাবে বোধগম্য হয় তা নিয়ে চিন্তা চর্চা করতেন। ফলত সহজ সরল ভাষায় তিনি কয়েকটি উপযোগী ধর্মগ্রন্থ রচনা করেন।
এদিনের সভায় কথায়, কবিতায় ও গল্পে প্রয়াত সেখ আফতাব উদ্দিন সরকারের উপরোক্ত বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন তাঁর পরিচিত কয়েকজন কবি সাহিত্যিক, সমাজসেবী, পত্রিকা সম্পাদক, পুত্র, পুত্র বধুরা ও নিকট আত্মজনেরা।

বিশিষ্ট মাওলানা আব্দুল ওহাব সাহেবের কোরান তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া স্মরণসভায় সভার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কিভাবে আফতাব উদ্দিন সরকারের সাথে তাঁর পরিচয় হয় এবং ক্রমে কিভাবে আফতাব উদ্দিন সরকার সংবাদপত্র বাংলার জনরবের কাছের মানুষে পরিণত হয়েছিলেন সেই স্মৃতি রোমন্থন করেন পত্রিকার সম্মানীয় সম্পাদক সেখ ইবাদুল ইসলাম।
নানা ব্যস্ততার মাঝে আফতাব উদ্দিন সরকার সাহেবের পুরোনো ক্যালেন্ডার এবং ডাইরির পাতায় নিয়মিত লিখে রাখা কবিতা থেকে বাছাই করা একগুচ্ছ কবিতা দিয়ে কিভাবে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আবেগের বর্ণমালা’ প্রকাশিত হয় তার নেপথ্য কথা সবিস্তারে তুলে ধরে তাঁর এ যাবৎ সাহিত্য চর্চার দিকটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেন বাংলার জনরবের সাহিত্য সম্পাদক সেখ আব্দুল মান্নান।
স্মৃতি তর্পণ অনুষ্ঠানে কথায়, কবিতায়, গল্পে আফতাব উদ্দিন সরকারের নিরব দিকগুলি সর্বসমক্ষে তুলে ধরেন ইদানীং নাট্যগোষ্ঠীর কর্ণধার নাট্যব্যক্তিত্ব জয়ন্ত রসিক, চোখ পত্রিকার সম্পাদক মানিক দে, ঔপন্যাসিক সিরাজুল ইসলাম ঢালী, বর্ষীয়ান কবি সুভাষ চন্দ্র ঘোষ, মেমারি বর্ধমানের ‘জিরো পয়েন্ট’ পত্রিকার সভাপতি কবি আঞ্জু মানোয়ারা আনসারী, লেখিকা জাহানারা রহমান, শিক্ষক মীর আব্দুর রফিক, বিশিষ্ট কবি মোহাম্মদ আল্লারাখা, কবি আলমগীর রাহমান, সমাজ সচেতন ব্যক্তিত্ব সালাউদ্দিন আহমেদ,স্বনামধন্য কবি মনিরা খাতুন, সাপ্তাহিক নতুন গতি পত্রিকার সম্পাদক এমদাদুল হক নূর, সমাজকল্যাণকামী সংস্থা লামিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল সেখ আমন, সজাগ মঞ্চের সম্পাদক সেখ বাহারুল ইসলাম, আফতাব উদ্দিন সরকারের জ্যেষ্ঠ পুত্র আলতাফ উদ্দীন সরকার, কনিষ্ঠ পুত্র আসফাক উদ্দীন সরকার, দুই পুত্রবধু রাহানুমা ও নাজনীন উলফৎ সরকার, নাতি কবিরুদ্দিন সরকার, আত্মজন কাজী মারুফ আহমেদ, জেসিয়া খাতুন, দীর্ঘ দিনের বিশ্বাসী সহকারী প্রবীর নাগ এবং সত্য কম্পিউটারের কর্ণধার চন্ডী চরণ পাইন।

