৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর নেই!
বাংলার জনরব ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ায় ফের ভূমিকম্প। কয়েক সপ্তাহ আগেই এই ভূমিকম্প হয়েছিল আবারো জোরালো কম্পন দেখা দিল রাষ্ট্রের এই দেশটিতে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৬। যদিও আশার কথা এই যে ভূমিকম্পের জেরে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। শুরুতে কম্পনের জেরে সুনামির আশঙ্কা করা হয়েছে। যে আশঙ্কা খারিজ করা হয়েছে বিশেষজ্ঞদের তরফে।
ভূতাত্ত্বিক গবেষণাকেন্দ্র ‘জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস’ (জিএফজেড) জানিয়েছে, এদিনের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বান্দা এলাকার সমুদ্রতল থেকে ১৩৭ কিলোমিটার (৮৫ মাইল) গভীরে। বিশেষজ্ঞদের তরফে জানা যায়, ভূমিকম্পের দিক থেকে অত্যন্ত সক্রিয় প্রশান্ত মহাসাগরের “রিং অফ ফায়ার” এর পাশে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া। এর জটিল টেকটোনিক বিন্যাসের কারণে প্রায়শই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে এখানে। বিশেষ করে বান্দা সাগর অঞ্চলটি অস্ট্রেলিয়ান এবং সুন্দা প্লেট সহ একাধিক টেকটোনিক প্লেটের কেন্দ্রস্থল। এই মিথস্ক্রিয়া পৃথিবীর ভূ-তলকে ছোট ছোট প্লেট এবং মাইক্রোপ্লেটে বিভক্ত করেছে। যেমন বান্দা সাগর, তিমুর, মোলুক্কা সাগর এবং বার্ডস হেড প্লেট – যা পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল ভূতাত্ত্বিক পরিবেশগুলির মধ্যে একটি।

২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। যার কেন্দ্রস্থল ছিল বান্দা আচের অদূরে। সেই ভূমিকম্পের জেরে তীব্র জলোচ্ছ্বাস সুনামি রূপ নিয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ে। মৃত্যু হয় বহু মানুষের। এ বারের ভূমিকম্পে অবশ্য কোনও হতাহতের কোনও খবর পাওয়া। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সমুদ্রে সুনামির কোনও লক্ষণ নেই।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৬ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশে ভূমিকম্প হয়েছিল। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আবেপুরা শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের এক জায়গায়, যেখানকার জনসংখ্যা ৬২,০০০-এরও বেশি। ৬.৭ মাত্রার ওই ভূকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭০ কিলোমিটার (৪৩.৫ মাইল) গভীরে।

