দেশ 

নির্বাচন কমিশন দায় এড়িয়ে যাচ্ছে, ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের ভিত্তি তাতে যদি প্রশ্নচিহ্ন থাকে? সুপ্রিম প্রশ্নে দিশেহারা নির্বাচন কমিশন

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন: ১৬ই অক্টোবর বিহারের এস আই আর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ছিল। আজ বৃহস্পতিবার সেই শুনানিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দিবেদী মামলাকারী আইনজীবীদের নানাভাবে আক্রমণ করতে থাকেন। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানাই যে তারা চেষ্টা করেছে যতটা স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করার জন্য। কিন্তু ভোটার তালিকা তৈরি একটি চলমান প্রক্রিয়া সেখানে সংশোধন হবে তাই এটা নিয়ে ভাবার কিছু নেই। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে আরো বলেন, যোগেন্দ্র যাদব সহ কিছু সংবাদ মাধ্যম যে সব কথাবার্তা প্রিন্ট মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হচ্ছে তা কিন্তু সরকারি নথি নয়। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবির মুখ থেকে এসব কথা শোনার পর আদালত জানতে চাই আপনারা কবে ফাইনাল লিস্ট প্রকাশ করবেন। তখন তিনি বলেন কাজ চলছে খুব দ্রুত প্রকাশ করা হবে নির্বাচনের আগেই তা প্রকাশিত হবে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয় শুধু প্রকাশ করলেই হবে না প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলকে ওই ভোটার লিস্ট পাঠাতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গায় টাঙ্গাতে হবে এমনকি বুথ ভিত্তিক এজেন্ট এর মধ্যে দিতে হবে সেখানে যেন কোনো রকম ভুল না দেখা যায়।

এদিন সুপ্রিম কোর্ট খুব কড়া পদক্ষেপ নিয়ে বলেন, বিহারের প্রধান নির্বাচন আধিকারিককে হলফনামা দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আমরা যা ব্যাখ্যা চেয়েছি তার। সুপ্রিম কোর্ট যেসব বিষয়ে বিহারের প্রধান নির্বাচন আধিকারিকের হলফনামা চেয়েছে তা নিচে দেওয়া হল।

Advertisement

১. আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে!

কেন এক‌ই ঠিকানায় শত শত ভোটার দেখানো হয়েছে, তার কারণ জানতে চাওয়া হয়।

“ডুপ্লিকেট ভোটার হ্যান্ডলিং মেকানিজম” নিয়ে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২. পুলিশ বা ব্লক প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার বিষয়টি উঠেছে

শুনানিতে উল্লেখ করা হয় যে SP এবং BDO–দের পক্ষ থেকে সঠিক নথি বা মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের প্রমাণ জমা পড়েনি।

৩. রিপোর্টার্স কালেক্টিভের ফাইন্ডিং আদালত থেকে উল্লেখ করা হয়েছে

বিশেষ করে রেলওয়ে কোয়ার্টার, স্কুল ভবন, সরকারি অফিসের ঠিকানাকে ভোট কেন্দ্র ধরে কয়েকশ ভোটারের এন্ট্রি—এই বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।

৪. ৪ নভেম্বর বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ

Election Commission of India (ECI) ও Bihar CEO (Chief Electoral Officer)-কে ব্যক্তিগত হলফনামা আকারে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পরবর্তী শুনানিতে বাস্তব যাচাইয়ের অর্থাৎ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্তের রিপোর্ট vs ডিজিটাল ডেটা ম্যাচিং তুলনা করে যাচাই করা হবে।

বিচারপতি মন্তব্য করেছেন:

“ভোটার লিস্ট গণতন্ত্রের ভিত্তি। সেখানে যদি ভুয়া রেজিস্ট্রেশন প্রমাণিত হয়, তা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।”

আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, “যদি প্রশাসনিক গাফিলতির প্রমাণ থাকে, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংযুক্ত ঠিকানা নিয়ে ECI–র ডাটা যাচাই রিপোর্ট জমা দিতে হবে পরবর্তী শুনানিতে

মাঠপর্যায়ে র‍্যান্ডম সার্ভে/স্পট ভেরিফিকেশন আদালত সরাসরি নজরদারি করতে পারে! প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জবাবদিহি আদালত কড়া ভাষায় ইঙ্গিত দিয়েছে।ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ নির্বাচনের আগে সম্ভাবনা বাড়ছে।

এদিন নির্বাচন কমিশন (ECI) ও বিহার চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের হলফনামার প্রধান যুক্তি ও পাল্টা আদালতের প্রতিক্রিয়া।

নির্বাচন কমিশনের যুক্তি,“ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া” ভুল থাকলেও পরবর্তীতে সংশোধন করা সম্ভব, তাই এখন বড় বিষয় না।

পাল্টা আদালত বলেছে – “ভুলকে যদি প্রক্রিয়া বলে চালিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সততা কীভাবে নিশ্চিত করবেন?”

“ডুপ্লিকেট ভোটার শনাক্ত করতে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে” প্রযুক্তির সাহায্যে যাচাই চলছে, তাই উদ্বেগের কারণ নেই।

আদালতের প্রশ্ন সফটওয়্যার মিলে গেলে কি বাস্তবে গিয়ে ঠিকানা যাচাই করা হয়েছে? শুধু ডেটা-ম্যাচ যথেষ্ট নয়!

“ভোট কেন্দ্রের ঠিকানা ব্যবহার করে বহু ভোটারের রেজিস্ট্রেশন নিয়মের মধ্যে পড়ে” তারা বোঝাতে চায়, স্কুল, পঞ্চায়েত ভবন, বা রেলওয়ে কোয়ার্টার ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে!

আদালত বলেছে – “একটি সরকারি স্কুলে ৪৮৭ জন ভোটার!” — এটি কেবল নিয়মের অপব্যবহার নয়, নজরদারির ব্যর্থতা”

“স্থানীয় BLO (Booth Level Officer) যাচাই করেছেন” মাঠ পর্যায়ে যাচাই হয়েছে দেখিয়ে দায় এড়িয়ে যেতে চেয়েছে। আদালত সরাসরি BLO–দের কার্যক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ব্লক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা চায়

“রিপোর্টার্স কালেক্টিভের রিপোর্ট সাংবাদিকতার ভিত্তিতে প্রস্তুত, তাই সরকারি নথি হিসেবে ধরা যাবে না” রিপোর্টকে ডিসক্রেডিট করতে চাইছে।

আদালত বলেছে – “মিডিয়া রিপোর্ট সরাসরি প্রমাণ নাও হতে পারে, তবে এটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং শুরু করার জন্য যথেষ্ট সিগন্যাল”

“নির্বাচনের আগে সংশোধনী তালিকা প্রকাশ করা হবে” সময় কিনতে চাইছে আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে — প্রি-পোল রিভিশন যথেষ্ট নয়, স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত লাগবে।

1. “Continuous process যুক্তি” — আদালত এটাকে ‘গাফিলতি ঢাকার ভাষা’ হিসেবে দেখছে।

2. মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের কোনও ফটোগ্রাফিক বা ভিডিও প্রমাণ নেই।

3. দোষ স্বীকারের পরিবর্তে দায় সরানোর ভাষা বেশি।

4. হলফনামায় একবারও ‘দায়বদ্ধতা (Accountability)’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি, যা আদালতের নজরে আসে।

5. ECI নিজেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছে, অথচ সংবিধান অনুযায়ী এটি ‘কন্ট্রোলিং অথরিটি’ — দায় বহন করতেই হবে।

পরবর্তী ধাপে গুরুত্ব পাবে যে প্রশ্নগুলো:

BLO কি সত্যিই ১০০ জনের বেশি ভোটার এক ঠিকানায় দেখে রিপোর্ট করেছিলেন? নাকি নথিতে সই করিয়ে বন্ধ করা হয়েছে?

ডিজিটাল ডেটা বনাম গ্রাউন্ড সার্ভে — কোনটি গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হবে?

ব্যক্তিগত দায়িত্ব (নামসহ) ফিক্স করা হবে কি না।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ