দেশ 

বিহারের এসআইআর নিয়ে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত সুপ্রিম কোর্টের! কেন এত মানুষের নাম বাদ ? কমিশনকে প্রশ্ন শীর্ষ আদালতের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিহারের এস আই আর নিয়ে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার ৭ই অক্টোবর এই মামলার শুনানিতে পরিষ্কারভাবে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি বলেছেন কেন এত মানুষের নাম বাদ গেল কেন বাদ গেল তার বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে মামলাকারী আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন শুধু বললে হবেনা নির্দিষ্ট তথ্যমূলক আলোচনা করতে হবে। আগামী ১৪ ই অক্টোবর এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিতে হবে দুই পক্ষকে।

এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রা খানিকটা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন প্রথমে ৬৫ লক্ষ মানুষের নাম বাদ তারপর তিন লক্ষ ছেষট্টি হাজার মানুষের নাম বাদ কেন হল? বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘এমন প্রক্রিয়া হওয়া উচিত, যেখানে জনগণের আস্থা তৈরি হয়।’’ কারণ না-জানিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ যদি কেউ তথ্য দিয়ে আদালতে জানান, তবে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হবে। জানান বিচারপতি সূর্য কান্ত। মামলাকারীর আইনজীবী প্রশান্ত বলেন, ‘‘অনেক লোকের নাম আমার কাছে রয়েছে। ১০০ জনের নামের তালিকা পরের শুনানিতে আদালতে জমা দেব।’’ আদালত তাঁকে সেই তালিকা জমা দিতে বলে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আবার পরের মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর)।

Advertisement

খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? প্রশ্ন বিচারপতির

কারণ না-জানিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন উদাহরণ থাকলে আদালতে জানাতে বলেন বিচারপতি। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া ঠিক নয়। অভিযোগ উঠছে ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ গিয়েছে। তার পরে আবার নতুন নাম যোগ হয়েছে। এই নতুন কারা? কী ভাবে তাঁদের নাম যোগ হল। প্রথমে বাদ গিয়েছিল তার পরে আবার ঢোকানো হল? স্পষ্ট করে বলুন। খসড়া তালিকা এবং চূড়ান্ত তালিকার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে বলুন।’’ কমিশনের পক্ষের আইনজীবী জানান, অনেক নতুন ভোটারের নাম যোগ হয়েছে।

তথ্যের ভিত্তিতে সওয়াল করুন: বিচারপতি

আইনজীবীদের তথ্যের ভিত্তিতে সওয়াল করার কথা মনে করিয়ে দেন বিচারপতি। মামলাকারীর আইনজীবী জানান, কাদের নাম বাদ গিয়েছে। ভাগ ভাগ করে সেই তথ্য দেওয়া হয়নি। তা শুনে বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘কাদের নাম নেই? চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সবাই দেখতে পাচ্ছেন সেখানে কাদের নাম রয়েছে।’’ বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘ধরুন, আমার নাম নেই। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে কারণ জানানো হয়নি। এমন উদাহরণ দিন। আদালতে হলফনামা দিন ওই বিষয়ে।’’

নিয়ম মেনে নাম বাদ নয়? প্রশ্ন বিচারপতির

এসআইআর প্রক্রিয়ায় কি নিয়ম মেনে নাম বাদ দেওয়া হয়নি? প্রশ্ন বিচারপতি সূর্য কান্তের। তিনি জানতে চান, কেন এই কথা বলা হচ্ছে? মামলাকারীর আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘির সওয়াল, ‘‘ভোটার তালিকায় বলা হয়েছে নাম মুছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন মুছে দেওয়া হল তার কারণ জানানো হয়নি।’’ বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘৩.৬৬ লক্ষ নাম প্রকাশ করা না হলে আমরা নির্দেশ দিতে পারি। লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে আপনাদের এই বিষয়টি আগেই আদালত শুনছে।’’

সুপ্রিম কোর্ট কার্যত আরো এক সপ্তাহ সময় নিয়ে নিল এই মামলায়। সুপ্রিম কোর্টের এই দীর্ঘসূত্র তার মামলাতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি আমজনতা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্ট কেন সরাসরি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করছেন না যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের বিষয়ে জড়িয়ে আছে সুতরাং সেখানে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি হত্যক্ষেপ করতেই পারে। সুপ্রিম কোর্ট যদি নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি বলে দেয় যাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে তাদের কেন নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাই স্পষ্ট করে সকলকে জানাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিতো বটেই ভারতবর্ষের যেকোনো নাগরিক যেন এই বিষয়টি জানতে পারে। এখন দেখার বিষয় আগামী ১৪ অক্টোবর পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কি বলে সেটাই এখন দেখার বিষয়


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ