দেশ 

জামিন মামলার নিষ্পত্তি দু মাসের মধ্যে করতে হবে হাইকোর্টগুলিকে ঐতিহাসিক নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : জামিন পাওয়ার অধিকার সাংবিধানিক অধিকার আর এই অধিকারকে নানা নিয়মের প্রেক্ষাপটে দাঁড় করিয়ে ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। জামিনের আবেদন সংক্রান্ত কোনো মামলা হাইকোর্টের কাছে এলে দু মাসের মধ্যে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। সম্প্রতি দিল্লির উমর খালিদ, সারজিল ইমামরা পাঁচ বছর ধরে তিহার জেলে বন্দি রয়েছে তাদের জামিন মামলার এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। গত সপ্তাহে দিল্লি হাইকোর্ট তাদের জামিন নাকচ করে দিয়েছে। তারপর এই দুজনের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন কিন্তু সেই আবেদনও ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুনানি পিছিয়ে দিয়েছে।

এই হচ্ছে দেশের বিচার ব্যবস্থার অবস্থা সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় সাহেব দাবি করেছিলেন তিনি নাকি জামিনের ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। কিন্তু তিনি উমর খালিদকে জামিন দেননি। যাইহোক সুপ্রিম কোর্ট গতকাল শুক্রবার যে নির্দেশ দিয়েছে তা এক কথায় ঐতিহাসিক বলা যেতে পারে। এখন দেখার বিষয় এই নির্দেশ কতটা কার্যকরী করে কলকাতা হাইকোর্ট এবং স্বয়ং সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, দীর্ঘ দিন ধরে জামিনের আবেদন ঝুলিয়ে রেখে নাগরিকের অধিকারকে খর্ব করা যাবে না। এই প্রেক্ষিতে বম্বে হাই কোর্টকে নিশানা করে সুপ্রিম কোর্ট। সেখানে ৬ বছর ধরে একটি জামিনের আর্জি বার বার মুলতুবি করা হয়েছিল। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট বলে, ‘‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সম্পর্কিত আবেদনগুলি বছরের পর বছর মুলতুবি রাখা যায় না। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিচ্ছে, জামিনের মামলা হোক বা অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সে সব শুনতে হবে। কারণ, শুনানির জন্য দীর্ঘমেয়াদি অপেক্ষা কেবল ওই মামলার গতি রোধ করে না, বিচারব্যবস্থার পক্ষেও তা হতাশাজনক। এ ভাবে সংবিধানের ১৪ (সমতার অধিকার) এবং ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) ধারাকে খর্ব করা যায় না।’’

তার পরেই শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, হাই কোর্টগুলো যেন জামিনের আবেদন দু’মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করে। তবে আবেদনকারী বা মামলাকারী কোনও ভাবে বিলম্ব করলে সেটা আলাদা বিষয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে একটি জামিনের আবেদন করা হয়েছিল বম্বে হাই কোর্টে। শুনানি পিছোতে পিছোতে সেটা ২০২৫ সাল হয়ে যায়। ৬ বছর পরে উচ্চ আদালত অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এই দীর্ঘসূত্রিতা এবং নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী। সেই মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বম্বে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট নির্দেশ বহাল রাখলেও ৬ বছর ধরে আবেদন ঝুলিয়ে রাখার জন্য ভর্ৎসনা করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ