আন্তর্জাতিক 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর ভারতের উপর ১০০% শুল্ক চাপাতে জি সেভেন দেশগুলিকে পরামর্শ ট্রাম্পের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে মহান দেশ এবং নরেন্দ্র মোদিকে তার বন্ধু বলে সম্মোধন করার পরেই এদেশের গণমাধ্যমগুলি এবং একই সঙ্গে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী যেভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসা শুরু করেছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল সব যেন মিটে যাবে। সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ আর মুখোশ দুটি যে আকাশ পাতাল তফাৎ তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত আমাদের গদি মিডিয়া কোন অনুষ্ঠান করেনি।

এদিকে জানা গেছে,ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর এবার জি৭কেও ডোনাল্ড ট্রাম্প পরামর্শ দিয়েছেন, ভারতের উপর যেন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হয়। সূত্রের খবর, শুক্রবার ভিডিও কলে আলোচনায় বসবেন জি৭ রাষ্ট্রগুলির অর্থমন্ত্রীরা। সেই বৈঠকেই মার্কিন প্রশাসনের তরফে চাপ দেওয়া হবে, জি৭ রাষ্ট্রগুলি যেন ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপায়।

Advertisement

দিনদুয়েক আগেই রাশিয়ার উপরে চাপ বাড়াতে চেয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ট্রাম্প বলেন, তারা যেন ভারত ও চিনের উপরে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কনফারেন্স কল চলাকালীনই ট্রাম্প বলেন, ”বাধ্যতামূলক ভাবেই এটা করতে হবে। নাটকীয় শুল্ক আরোপ করতে হবে ততক্ষণ, যতক্ষণ না চিন বা অন্য দেশ রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করছে।” এবার সেই একই কৌশলে জি৭ দেশগুলির উপরেও চাপ সৃষ্টি করতে চলেছেন ট্রাম্প, এমনটাই সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের জটিলতা কাটাতে গত মঙ্গলবার এক বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ট্রুথে তিনি লেখেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি দীর্ঘ বাণিজ্য জট ছাড়াতে দুই মহান দেশ ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলছে। আমার প্রিয় বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। আমার বিশ্বাস দুই মহান দেশের এই আলোচনা শীঘ্রই সমস্ত বাধা পেরিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছবে।’

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এহেন আচরণ ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই বিস্মিত ওয়াকিবহাল মহল। বলে রাখা ভালো, ট্রাম্পের অন্যায্য দাবির কাছে মাথানত না করায় বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়নি দুই দেশের। তার উপর রুশ তেল কেনায় ভারতের উপর রীতিমতো দাদাগিরি শুরু করে আমেরিকা। চাপানো হয় ৫০ শতাংশ শুল্ক। বাণিজ্যচুক্তির কোনও অগ্রগতি না-হলে শুল্ক নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনও আলোচনা করবেন না বলে জানায় হোয়াইট হাউস। এবার মুখে নয়াদিল্লির সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা বলেও আড়ালে ‘বন্ধু’ দেশগুলির কাছে ট্রাম্প অনুরোধ করছেন, ভারতের উপর যেন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দ্বিচারিতা নিয়ে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ