কলকাতা পৌরসভার নয়া উদ্যোগ
স্মৃতি সামন্ত : শহরে ঐতিহ্যবাহী ভবন গুলিকে তালিকাভুক্ত করতে তৎপর কলকাতা পুর সভার হেরিটেজ বিভাগ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় অসাধু প্রোমোটার থাবা বসিয়েছে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে অনেক ঐতিহ্যবাহী ভবন। তার জায়গায় তৈরি হয়েছে আধুনিক বহুতল।তাই যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তার জন্য এই সমস্ত ঐতিহ্যশালী বাড়ির খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে কলকাতা পুর সভার হেরিটেজ বিভাগ।
খোঁজ করতে গিয়ে কলকাতা পুর সভার আধিকারিকরা একটি ঐতিহাসিক বাড়ির সন্ধান পেয়েছেন। 48A, কৈলাশ বোস স্ট্রীটের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। জানা গেছে এই বাড়িতে বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে প্রথম বিধবা বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার 1856 সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ঐকান্তিক প্রয়াসে বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন করতে বাধ্য হয়েছিল। 7 ডিসেম্বর 1856 সালে বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে প্রথম বিধবা বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল 48A, কৈলাশ বোস স্ট্রীটের অবস্থিত এই ঐতিহাসিক বাড়িতে। ইতিহাসের পাতায় খোঁজে দেখলে পাওয়া গেছে যে রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে হয়েছিল সামাজিক সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন উদ্যোগ। ব্রিটিশ সরকারের আমলে 1855 সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তৎকালীন সরকার কে বিধবা বিবাহ আইন প্রচলিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তার পরে 1885 সালের 26 জুলাই বিধবাবিবাহ আইন অনুমোদিত করে ব্রিটিশ সরকার। তার পরে 1856 সালের 7 ডিসেম্বর বর্তমানে 48A, কৈলাশ বোস স্ট্রীটের অবস্থিত এই বাড়িতেই পটলডাঙ্গার লক্ষ্মীমনি দেবীর দশ বছরের বিধবা কন্যা কালিমাতির সঙ্গে প্রখ্যাত কথক রামধন তর্কবাগীশের কনিষ্ঠ পুত্র শ্রীচন্দ্র বিদ্যারত্নের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। সম্প্রীতি কলকাতা পুর সভার হেরিটেজ বিভাগ শহরের এই ঐতিহ্যশালী বাড়ি কে তকমা দিয়ে তালিকায় নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানালেন কলকাতা পুর সভার মেয়র পরিষদ হেরিটেজ বিভাগ স্বপন সমাদ্দার। তিনি জানিয়েছেন যে নিজের বিভাগের আধিকারিক দের এই ঐতিহ্যবাহী বাড়ির সম্পর্কে ইতিহাস খুঁটিনাটি বিচার বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। স্বপন সমাদ্দার স্বীকার করছেন প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই বাড়ির সম্পর্কে কলকাতা পুর সভার কাছে তার বিবরণ ছিল না। ইতিহাসের পাতায় ভালো করে রাখা উচিত ছিল।
কিন্তু এই বাড়ির কলকাতা পুর সভার ঐতিহ্যবাহী তালিকায় ছিল না বলে স্বীকার করলেন তিনি। তবে এই বাড়ি কে কোন তালিকায় রাখা হবে সেটা সিদ্ধান্ত নেবে হেরিটেজ এক্সপার্ট কমিটি বলে জানালেন মেয়র পরিষদ হেরিটেজ বিভাগ। তার দাবি একটু সময় লাগলেও খুব শীঘ্রই এই ঐতিহাসিক বাড়ির খুঁটিনাটি অনুসন্ধান করে এই বাড়ি কে হেরিটেজের তকমা দেওয়া হবে বলে জানান স্বপন সমাদ্দার। জানা গেছে বর্তমানে এই বাড়িতে কেউ থাকেন না। একজন যিনি বাড়ির মালিক তিনি কলকাতার বাইরে থাকেন। বাড়ি গেটে এখন তালাবন্ধ রয়েছে। তাই কলকাতা পুর সভার আধিকারিকরা অনুসন্ধান করে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে তাদের ঐতিহ্যশালী ভবনের তালিকা তৈরি করার ক্ষেত্রে বাড়ির ইতিহাসের পাতা খুঁটিয়ে দেখে তার রিপোর্ট কলকাতা পুর সভার মেয়র পরিষদ হেরিটেজ বিভাগ স্বপন সমাদ্দার কে দেবেন। তার পরেই হেরিটেজ এক্সপার্ট কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে খবর।

