লক্ষ্যে অবিচল থাকো, স্বপ্ন তোমরাই ছুঁতে পারবে। হাতিয়াড়ার হক মঞ্জিলে কৃতী ছাত্র-ছাত্রী সংবর্ধনায় বললেন শিক্ষাব্রতী ফাতিমা পারভীন
নিজস্ব প্রতিবেদন : গত কাল রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হাতিয়াড়ায় বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক মরহুম আলহাজ্ব এজাহারুল হক-এর স্মৃতিতে শিক্ষা বিষয়ক এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ গরমের ছুটিতে ছেলেমেয়েরা যেন পড়াশুনা থেকে বিচ্যুত না হয়ে যায়, সে কথা মাথায় রেখে এদিন অনুষ্ঠানের সূচি প্রস্তুত করা হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজনে ছিল হক মঞ্জিল পরিবার, তাই এর নাম দেওয়া হয় হক মঞ্জিল সামার-ক্যাম্প।
ছোটদের জন্য বানান নিয়ে খেলা, শব্দ বানাও প্রতিযোগিতা, কেমন তোমার পরিবার, কিছু ভাবছো নাকি সমাজ নিয়ে এই ধরনের নানারকম উদ্ভাবনী মূলক অনুষ্ঠান ছাড়াও ছিল খুদে পড়ুয়াদের সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট। এই বিভাগে তারা নিজে হাতে বিজ্ঞানের নানা কার্যক্রম করে দেখায় এবং তা কেন ঘটে তারও ব্যাখ্যা করে।

বাচ্চা-বাচ্চা ছেলে মেয়েদের নিয়ে এই ধরনের মজার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিন উপস্থিত ছিল বিভিন্ন এলাকার মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক আই.সি.এস.ই বোর্ডের কৃতী ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করে হক মঞ্জিল পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যা বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী ফাতিমা পারভীন বলেন সাধনা ছাড়া বড় কোনো কিছু স্পর্শ করা যায় না। তোমাদের বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকারা যে স্বপ্ন দেখান, তার বাস্তবায়নে প্রয়োজন একাগ্রচিত্তে সাধনা। এই একাগ্রতাই তোমাদের ঘটিয়ে দেবে অসাধ্য সাধন। বাস্তবায়ন হবে স্বপ্নের। এ সমস্ত কিছু একদিনের হওয়ার নয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে। এই কাজে হক মঞ্জিল পরিবার বরাবর থেকেছে পড়ুয়াদের পাশে। শিক্ষা প্রসারে মানুষ গড়ার কাজে মাওলানা এজাহারুল হক সাহেবের দীর্ঘ সাধনাকে এদিন বারে বারে স্মরণ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন ‘গল্প-দিদা’ নামে খ্যাত বিশিষ্ট শিক্ষিকা সুদেষ্ণা মৈত্র। তিনি হক মঞ্জিল পরিবারের এই আয়োজনকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে এই উদ্যোগ সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। বাংলা বানান নিয়ে ‘গল্প-দিদার’ মজার পরিবেশনায় আকৃষ্ট হয় ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা।
ভারত সরকারের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক ও বিশিষ্ট শিক্ষাপ্রেমী আব্দুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষক ও অনুসন্ধান কলকাতার সম্পাদক গৌরাঙ্গ সরখেল, বিশিষ্ট সমাজসেবী মোহাম্মদ খলিল, রাখি সরখেল, মনির উদ্দিন আহমেদ প্রমূখ এদিন সভায় বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করেন খুদে পড়ুয়াদের। অনুষ্ঠান শেষে অভিভাবক সহ সকলেই এ ধরনের উদ্যোগ বেশি বেশি যাতে হয়, সে ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

