হায়দ্রাবাদের করাচি বেকারিতে হামলা গেরুয়া শিবিরের!
বাংলার জনরব ডেস্ক : দেশভাগের সময় ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন করাচি এই বাসিন্দা। ধর্মে সনাতনী হিন্দু। কিন্তু যেহেতু তিনি করাচির মানুষ ছিলেন তাই হায়দ্রাবাদ শহরে তিনি একটি বেকারি নির্মাণ করেছেন সেই বেকারি নাম দিয়েছিলেন করাচি বেকারি। করাচি যেহেতু পাকিস্তানের একটি শহরের নাম আর ওই বেকারির প্রতিষ্ঠাতা একসময় করাচির মানুষ ছিলেন তাই তিনি বেকারির নাম এইভাবে রেখে ছিলেন। এটাই যে এখন হিন্দুত্ববাদীদের নিশানায় আসবে তা হয়তো কল্পনাও করেননি ওই হিন্দু পরিবার।
সমগ্র দেশ যখন ভারত পাকিস্তানের সংঘাত নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে ঠিক সেই সময়ই দেখা গেল হায়দ্রাবাদের করাচি বেকারি তে কতিপয় বিজেপি সমর্থককে হামলা করতে।

তেলঙ্গানা পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিকেল ৩টে নাগাদ করাচি বেকারির সামনে বিক্ষোভ হয়। সেখানে জড়ো হয়ে নাম বদলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন কিছু মানুষ। তাঁরা নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে জানিয়েছে পুলিশ। হায়দরাবাদের আরজিআই এয়ারপোর্ট থানার ইনস্পেক্টর কে বলরাজু বলেন, ‘‘বেকারির কোনও কর্মচারী আহত হননি। গুরুতর কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবরও নেই। আমরা বিক্ষোভের খবর পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলাম। নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ওই বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের আমরা বুঝিয়ে বেকারির সামনে থেকে সরিয়ে দিই।’’
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের করাচি শহরের নামে বেকারির নামকরণ হলেও এটি ভারতীয় সংস্থা। এই বেকারি চালায় একটি ভারতীয় পরিবার, যারা দেশভাগের পর পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে এসেছিল। ১৯৫৩ সালে হায়দরাবাদের মোজ়ামজহি মার্কেটে করাচি বেকারি প্রতিষ্ঠিত হয়। ধীরে ধীরে ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে শাখাপ্রশাখা বিস্তার করেছে সংস্থাটি। বর্তমানে হায়দরাবাদ ছাড়াও দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাইয়ে করাচি বেকারির শাখা রয়েছে। শুধু হায়দরাবাদেই রয়েছে এই বেকারির ২৪টি শাখা।

