কলকাতার ডিআই অফিসের তালা ভাঙলো, তালা পড়লো চুঁচুড়া তমলুকে, জেলায় জেলায় চাকরিহারাদের বিক্ষোভে উত্তাল রাজ্য
বিশেষ প্রতিনিধি : সুপ্রিম কোর্টের রায় ২৫৭৫২ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। সেই চাকরিহারা শিক্ষকদের বিক্ষোভের জেরে কলকাতার জেলা পরিদর্শকের অফিস কার্যত বন্ধ করে দিতে হয়েছে। সকাল থেকেই বিক্ষোভের আজ পাওয়ার পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ডি আই অফিসকে বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কসবার শিক্ষা ভবনের সামনে জড়ো হয় চাকরি হারা শিক্ষকরা তাদের দাবি ছিল জেলা পরিদর্শকের সঙ্গে দেখা করে তারা ডেপুটেশন দেবেন। কিন্তু পুলিশ জানিয়ে দেয় ডি আই এখন অফিসে নেই দেখা হবে না। এরপর কার্যত পরিস্থিতি খুব ঘোরলো হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় বলে জানা গেছে।
বুধবার সকালে চাকরিহারাদের একাংশ জড়ো হন কসবার ডিআই অফিসের সামনে। তবে তাঁরা যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন, সেই জন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নিয়েছিল পুলিশ। ব্যারিকেডের পাশাপাশি ডিআই অফিসের গেটে তালা লাগানো ছিল। কিন্তু বেলা গড়াতে দেখা গেল ওই তালা ভেঙে ডিআই অফিসের ভেতরে ঢুকে পড়েন চাকরিহারারা।

শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চাকরিহারারা পথে নেমেছেন। জেলায় জেলায় ডিআই অফিস অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন চাকরিহারারা। সেই মতো বুধবার সকাল থেকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। কলকাতার ডিআই অফিসে সামনে জমায়েত আচমকাই তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তাঁদের দাবি ছিল, স্কুল পরিদর্শককে (ডিআই) দেখা করতে হবে। তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেবেন। কিন্তু অফিসে ছিলেন না ডিআই। পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করে। তবে তালা ভেঙে ডিআই অফিসে ঢুকলেই তাঁদের আটকায় পুলিশ। ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করার অভিযোগও উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের লাঠির ঘায়ে কয়েক জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি। চাকরিহারা এক শিক্ষক প্রতাপ রায়চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘আমরা যোগ্য তাই আমরা চাকরিহারা হয়ে আজ রাজপথে আন্দোলন করছি। পুলিশ আমাদের নির্বিচারে লাঠি মেরেছে।’’
কলকাতা ছাড়া হুগলির পথেও চাকরিহারাদের বিক্ষোভের ছবি দেখা গিয়েছে। হুগলি স্টেশন থেকে মিছিল করে বিক্ষোভকারীরা ডিআই অফিসের দিকে মিছিল করেন। তাঁদের দাবি, যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করতে হবে। ফেরাতে হবে চাকরি। হুগলি মোড়ে জিটি রোড অবরোধ করেন চাকরিহারা শিক্ষকদের। পরে ডিআই অফিসে গিয়ে গেটে তালা মারেন তাঁরা।
কলকাতার মতো মালদহেও একই ছবি দেখা গেল। চাকরিহারাদের ডিআই অফিস অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধে। পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ ইংরেজবাজার শহরের অতুল মার্কেট সংলগ্ন ডিআই অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাক দেয় যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মী মঞ্চ। অভিযোগ, ডিআই অফিসের সামনে গেলেই তাদের আটকে দেওয়া হয়। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি।
বালুরঘাটেও পথে চাকরিহারারা। সকালে রঘুনাথপুর এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন তাঁরা। তবে সেই মিছিল ডিআই অফিসের সামনে যেতেই পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের আটকাতে ব্যারিকেড দেয়। সেই ব্যারিকেড টপকে এগোতে গেলেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বাধে। তবে বাধা পেরিয়ে আন্দোলনকারীরা ডিআই অফিস চত্বরে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা দীর্ঘ ক্ষণ সেখানে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। ডিআই অফিসের মূল কক্ষে এবং বাইরের দু’টি গেটে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।
সকাল থেকেই চাকরিহারা শিক্ষকরা দলে দলে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে ডিআই অফিসের সামনে জড়ো হন। তার পর তাঁরা অফিসের মূলগেটে তালা ঝুলিয়ে সেখানেই রাস্তার ওপর বসে অবস্থান বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভের মাঝেই ডিআই অফিস খুলতে গেলে কর্মীদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি, ডিআইকেও অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। বিক্ষোভকারীদের দাবি, যোগ্যদের সরকারি ভাবে কাজে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নয়তো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নতুন করে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদের প্রকাশ করে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

