এসএসসির রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা রাজ্যের ভুল ছিল!
সেখ ইবাদুল ইসলাম : ২০১৬ এসএসসির নিয়োগ প্যানেলের পুরোটাই বাতিল করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। এর আগে গত বছর ২০২৪ সালের বাইশে এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এসএসসির পুরো প্যানেল বাতিল করেছিল। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যেহেতু স্বচ্ছতা আর অস্বচ্ছতা বাছাই করা সম্ভব নয় তাই পুরো প্যানেল বাতিল করা হচ্ছে। এ কথা ঠিক কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কে বারবার অস্বচ্ছতার সঙ্গে চাকরি পেয়েছে তাদের তালিকা দিতে বলে। কিন্তু কোন তালিকায় স্বচ্ছ ভাবে দিতে পারেনি দুই সংস্থায়। উপরন্তু স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দুটোর তালিকায় দু’রকমভাবে দেওয়া হয়। ফলে কলকাতা হাইকোর্ট খানিকটা বিরক্ত হয়ে এই রায় দেয়।
অনেক সুযোগ দেয়া সত্বেও যখন অনেক যারা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছে তাদের তালিকা সামনে আনতে ব্যর্থ হয় এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ তখনই কলকাতা হাইকোর্ট বাধ্য হয়ে সমস্ত প্যানেল বাতিল করে দেয়। সেই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্ট এটা জানাই যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এদের মধ্য থেকে পরীক্ষা নিয়ে নতুন তালিকা করে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। কলকাতা হাইকোর্টের এই সুযোগটাকে রাজ্য সরকার কাজে লাগাতে পারতেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত ছিল সুপ্রিম কোর্টে না গিয়ে সরাসরি নতুন করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে নেওয়া। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের মধ্যে এদেরকে সুযোগ দেওয়া চাকরি করার কিংবা সেরকম হলে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েই পরীক্ষা বসার সুযোগ করে দেওয়া যেত। তা না করে যেভাবে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এই মামলাকে দীর্ঘদিন ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হলো এবং শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের রায়কেই মান্যতা দিল তার ফলে রাজ্যের শাসক দলের আম ও ছালা দুটোই গেল। আর এক বছরের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন এই নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের কাছে এটা একটা বিপর্যয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। এই বিপর্যয় কাটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি দ্রুত নিজের জনপ্রিয়তা রাজ্যে ফিরে পাবে। সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

কারণ এটা জলের মতো সত্য শুধুমাত্র দুর্নীতি করার জন্যই স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে চিত্তরঞ্জন মণ্ডলকে সরানো হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি এই ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে চিত্তরঞ্জন মন্ডলকে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে বসিয়ে রাখতেন তাহলে আমাদের মনে হয় এই পরিস্থিতির মুখোমুখি আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে হতে হতো না। চিত্তরঞ্জন মন্ডলের মত একজন সৎ আদর্শবান শিক্ষককে যেভাবে অপমান করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল সেটাও একটা ইতিহাস বলা যেতে পারে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে সততার প্রতীক বলে জাহির করে থাকেন তিনি যদি সত্যিই এ রাজ্যের মেধাবী সন্তানদের চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করতেন বা চাকরি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন তাহলে চিত্তরঞ্জন মন্ডলকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পদ থেকে সরাতেন।
যাইহোক, স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরি চলে যাওয়ার পর এবার আরেকটি মামলা সামনে আসতে চলেছে তা হল প্রাইমারি টেট পরীক্ষার নিয়ে যেতে দুর্নীতি হয়েছে সেই মামলা। এখানেও চাকরি যাওয়ার সম্ভাবনা আছে যদি এই ধরনের রাই বেরিয়ে আসে তাহলে কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ভিত যে নড়বড়ে হয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

