জেলা 

কৃষ্ণনগরে মৃত মাকে রাস্তার পাশে ফেলে অসহায় মেয়ের আর্তনাদ, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও মানবিকতার চরম ব্যর্থতা: মাসুদুল ইসলাম 

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : নদিয়ার কৃষ্ণনগরে ১১ বছরের এক শিশুকন্যাকে তার মায়ের নিথর দেহ আগলে বসে থাকতে হলো শুধুমাত্র টাকার অভাবে! অ্যাম্বুল্যান্স মেলেনি, প্রশাসন সাহায্যের হাত বাড়ায়নি, পথচারীরা চেয়ে দেখেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে—এ কি পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ও সমাজব্যবস্থার আসল চিত্র নয়?

একটি রাজ্যে যেখানে ‘সমব্যথী’ প্রকল্প চালু আছে, যেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের অধিকার বলে দাবি করা হয়, সেখানে একটি ছোট্ট শিশুকে কেন এমন ভয়ংকর পরিস্থিতির শিকার হতে হলো? এই ঘটনার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। সরকারের ব্যর্থতাই আজ এক মায়ের মরদেহ রাস্তার পাশে পড়ে থাকার কারণ।

Advertisement

এসডিপিআই স্পষ্টভাবে বলতে চাই— এই ঘটনা প্রমাণ করে, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত ও অকার্যকর। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ‘সমব্যথী’ প্রকল্প থাকলেও, বাস্তবে তা শুধু নামমাত্র চালু আছে। দরিদ্র মানুষ প্রকৃত সুবিধা পাচ্ছে না। অপরদিকে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্ব ছিল অবিলম্বে দেহ পরিবহনের ব্যবস্থা করা। অবিলম্বে তাদের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকারের কাছে আমারা দাবি জানাচ্ছি—অবিলম্বে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এবং দারিদ্রদের জন্য নিখরচায় শববাহী যানবাহনের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অবস্থার সম্মুখীন না হয়।

এ ঘটনার আরেকটি করুণ দিক হলো—সাধারণ মানুষের মানবিকতার অভাব। এক অসহায় শিশু মায়ের মরদেহ নিয়ে কাঁদছিল, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ শুধু দূর থেকে দেখল, কেউ এগিয়ে এল না! সমাজ যদি এতটাই নির্দয় হয়ে যায়, তাহলে সভ্যতা কিসের জন্য? আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাই—ক্ষমতার আসনে থাকা সরকার হোক বা পথচলতি সাধারণ মানুষ, মানবিকতার শেষ চিহ্নটুকু অন্তত রক্ষা করুন।

এসডিপিআই সর্বদা দুঃস্থ ও বঞ্চিত মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে। আমরা চাই, এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন কখনও না ঘটে।

 

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ