ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাসভবনে বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় সন্দেহবাজন তিনজনকে আটক!
বাংলার জনরব ডেস্ক : ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাসভবনে বোমা নিক্ষেপ এবং অগ্নি সংযোগের ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে ইসরাইল পুলিশ।
রোববার (১৭ নভেম্বর) জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সন্দেহভাজন তিনজনকে গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত এবং লাহাভ ইউনিট ৪৩৩ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে।

আটক তিন নাগরিকের ব্যাপারে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইসরাইল। তারা কীভাবে এই ঘটনায় জড়িত হন, এই হামলার পেছনে তাদের কোনো গোষ্ঠী নিয়োগ করেছিল কি না, সেটাও এখনো প্রকাশ করেনি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে জিউস প্রেসের প্রতিবেদনে, এই তিনজনকে বিশৃঙ্খলাকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর বাসভবনের আশপাশে কোনো বিক্ষোভ থেকে আক্রমণ হয়নি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনাে কর্মসূচিও ছিল না। সম্প্রতি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জিম্মি মুক্তি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলতে থাকায় তাকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ইসরাইলি পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় সিজারিয়া এলাকায় নেতানিয়াহুর বাসভভনের আঙিনায় হালকা মাত্রা বােমা নিক্ষেপে আগুন জ্বলে উঠে , এতে কোন ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। নেতানিয়াহু এবং তার পরিবার তখন বাড়িতে ছিলেন না।
এর আগে গত ২১ অক্টোবর সিজারিয়ায় নেতানিয়াহুর এই বাসভবনে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হিজবুল্লাহ। ওই সময় পরিচালিত হামলার পূর্ণাঙ্গ ও একক দায় ঘোষণা করেছিল হিজবুল্লাহ।
এরপর হিজবুল্লাহ প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রথম ভাষণে নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দেন শেখ নাঈম কাসেম। তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহর হামলার ভয়ে নিজের জীবননাশের আশঙ্কা করছেন নেতানিয়াহু।
নাঈম কাসেম তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘আমরা নেতানিয়াহুর ঘরে একটি ড্রোন পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। নেতানিয়াহু এবার বেঁচে গেছেন, কিন্তু সম্ভবত তার সময় এখনও আসেনি।’
‘সম্ভবত একজন ইসরাইলি তাকে হত্যা করবে, সম্ভবত তার বক্তৃতার সময়।’‘আমাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ নিশ্চিত করেছে যে নেতানিয়াহু খুবই ভীতসন্ত্রস্ত, কারণ আমরা তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছি’।
আসলে এই ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরে নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক অশান্তি রয়েছে। সমগ্র ইসরাইল জুড়েই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে সরকার বল প্রয়োগ করে এবং সংবাদ মাধ্যমগুলিকে চাপ সৃষ্টি করে এই ধরনের খবরকে বাইরে আসতে দিচ্ছে না। ইসরাইলের এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে এই ধরনের যুদ্ধ যদি আর কিছুদিন চলে তাহলে ইসরাইলের আর্থিক অবস্থা যেমন ভেঙে পড়বে, ঠিক সেরকম ভাবেই তাদের সেনাবাহিনীও অনেকটাই কমে যাবে।

