১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের পরে অসমে আসা বাংলাদেশিরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবে না জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট
বাংলার জনরব ডেস্ক : অসমের জন্য তৈরি করা কেন্দ্রীয় সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইনের ৬এ ধারাকে সাংবিধানিক বৈধতা দিল সুপ্রিম কোর্ট।প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সংবিধান বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দিয়েছে। তবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই রায় হয়নি। প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়, বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্র রায়ের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। ৬-এ ধারাকে ‘অসাংবিধানিক’ বলেছেন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা।
অসমে অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত ওই ধারা ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করে শীর্ষ আদালতে মোট ১৭টি আবেদন জমা পড়েছিল। সেগুলি একত্র করে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সংবিধান বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরের গোড়ায়। বৃহস্পতিবার তার রায় ঘোষণা করে শীর্ষ আদালত বলেছে, ‘‘অসম চুক্তি মেনে অবৈধ অভিবাসনের সমস্যার এটি একটি রাজনৈতিক সমাধান।’’

আবেদনকারী পক্ষের অভিযোগ ছিল, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৬-এ ধারা ভারতীয় সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদকে লঙ্ঘন করছে। ওই ধারা অনুযায়ী, অসমে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসাবে চিহ্নিত ব্যক্তিকেই প্রমাণ করতে হয় তিনি ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু ভারতীয় সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সাম্যের অধিকার রয়েছে। যে কেউ, তিনি দেশি, বিদেশি এমনকি অনাগরিক হয়েও যদি ভারতে বাস করেন, তিনিও সংবিধানে বর্ণিত ওই সাম্যের অধিকার ভোগ করবেন। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, শরণনার্থীদের আশ্রয়ের প্রসঙ্গ নয়, এ ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টির সাংবিধানিক বৈধতা বিচার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কেবল মাত্র অসম রাজ্যের জন্যই নাগরিকত্ব আইনের ৬-এ ধারাটি তৈরি করা হয়েছিল। অসমে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পরে ১৯৮৫-তে ভারত সরকার এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে হওয়া ‘অসম চুক্তি’-র অঙ্গ হিসাবে নাগরিকত্ব আইনের ৬-এ ধারা তৈরি করা হয়েছিল। ওই ধারা অনুযায়ী ১৯৬৬-র ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ পর্যন্ত অসমে অনুপ্রবেশ করা বাংলাদেশিদের নাগরিকত্বের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে আসা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।
এতদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য এই আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছিল। নাগরিকত্ব আইনের ছয় এর ধারা এর সংশোধনীর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল একাধিক সংগঠন। ওই সংগঠন গুলির বক্তব্য হচ্ছে এই সংশোধনী আইন অনুসারে অনুপ্রবেশ কারী হিসাবে যাকে চিহ্নিত করা হবে তাকেই প্রমাণ করতে হবে তিনি ভারতীয় নাগরিক। এটা ভারতের সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার পরিপন্থী বলে মামলাকারীরা দাবি করেছিলেন। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এর নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এতদিন ধরে এই মামলা শুনছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার রায় দিতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি সহ চারজন বিচারপতি নাগরিকত্ব আইনের ৬ এর ধারার সংশোধনীকে সংবিধান সম্মত বলে জানিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এই সংশোধনী আইনকে অসংবিধানিক বলে অভিহিত করেছেন।

