দেশ 

সোনিয়া-রাহুলকে চোর প্রমাণ করতে গিয়ে বেকায়দায় “ চৌকিদার “

শেয়ার করুন
  • 67
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : অগুস্তা ওয়েস্টল্যান্ড কপ্টার দূনীর্তি মামলায় মিসেস গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর নাম এই মামলায় ধৃত ক্রিশ্চিয়ান মিশেল নাকি ইডিকে বলেছে । তা ইডি দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টে জানিয়েছে । কিন্ত ঘটনার দুদিন পর দেখা যাচ্ছে, মোদী সরকারের ইডি প্রকাশ্যে এই মন্তব্য করে আসলে বিরোধীদের আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ করে দিল । খোদ এনডিএ জোটের মধ্যে বিভেদ স্পষ্ট হয়েছে । এক ঘরে হয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । আর এই সুযোগে কংগ্রেস আরও জোরে বলতে শুরু করেছে চৌকিদার চোর হ্যায় । আসলে ড. মনমোহন সিং-র আমলে যে কয়েকটি দূনীর্তি মামলা সামনে এসেছে তার সব কটির বিরুদ্ধে সেই সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছিল । টুজি কেলেংকারির কথা বলা হয় ; টুজিতে করুণানিধির কণ্যা কানিমোঝিকে জেলে যেতে হয়েছিল ; সেই সময়ে টেলিকম মন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়েছিল । আর বর্তমান মোদী সরকারের আমলে দূনীর্তির ইস্যুতে বিজেপির কোন নেতা জেলে আছে ?

অগস্তা ওয়েটল্যান্ড কপ্টার কেলেংকারি খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই চুক্তি বাতিল করে দিয়েছিলেন মনমোহন সিং । আবার নতুন করে  অগুস্তার উপর কংগ্রেস জমানায় জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে তাদের আসল ‘রক্ষাকর্তা’ হয়ে উঠেছে মোদী সরকারই। এখন নিজেদের চুরি ঢাকতে উল্টো অভিযোগ আনছে। রাফালের পর এটি আসলে ‘চৌকিদার চোর হ্যায়— পর্ব ২’। কেন্দ্রে নতুন সরকার মোদীর সঙ্গে অগুস্তার যোগসাজসের তদন্ত করবে।

শুধু কংগ্রেস নয় । শরদ পওয়ার, শরদ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা— একের পর এক বিরোধী দলের নেতাও এ দিন অগুস্তা-কাণ্ডে কংগ্রেসের পাশেই দাঁড়িয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুলে মোদীকেই নিশানা করেছে।

কংগ্রেসের দাবি, ইউপিএ জমানায় দুর্নীতি সামনে আসতেই অগুস্তার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তদন্ত শুরু হয়। বিনিয়োগের তিনগুণ টাকাও আদায় করে সরকার। কিন্তু মোদী ক্ষমতায় আসার পরেই অগুস্তা এবং তার ‘পেরেন্ট’ সংস্থা ফিনমেকেনিকার উপর থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এমনকি তাদের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’য় সামিল করা হয়। নতুন কপ্টারের বরাতও দেওয়া হয়।

আদালতে ইডির দাবি করা ‘মিসেস গাঁধী’ ইন্দিরা না সনিয়া? কোন প্রশ্নে, কোন প্রেক্ষিতে, কোন সূত্রে মিশেল এমন বলেছেন, আদৌ কী বলেছেন, ইডি কিছুই জানায়নি। প্রমাণ দেওয়া তো দূর অস্ত্। অথচ তাই নিয়েই কাল থেকে স্মৃতি ইরানি, রবিশঙ্কর প্রসাদ, প্রকাশ জাভড়েকরের মতো মন্ত্রীরা গাঁধী পরিবারকে বিঁধতে নেমে পড়েছেন। পি চিদম্বরমরে কটাক্ষ, ‘‘আইন মানার কোনও বালাই নেই! ইডি যা মুখে বলবে, সেটাই মৌখিক প্রমাণ! আর টেলিভিশন চ্যানেল যা বলবে, সেটাই রায়!’’ কপিল সিব্বলের কথায়, ‘‘নরেন্দ্র মোদীর ইশারায় কাজ করছে ইডি। ইডি-সিবিআইয়ের আইনজীবীরাও আদালতে কী করে রাজনীতি করতে পারেন? গোয়েন্দা সংস্থার উপরে আর আমাদের ভরসা নেই।’’

এখন দেখা যাচ্ছে অগুস্তা নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করতে গিয়ে ফেসে গেছেন খোদ মোদী । এবার অগুস্তার উপর নিষেধাঞ্জা কেন মোদী সরকার তুলে নিয়েছে তা নিয়ে কংগ্রেস তো বটেই দেশের প্রধান ১০ টি বিরোধী দলও সরব হয়েছে । তাদের দাবি রাফাল যদি চৌকিদার চোর হ্যায় পর্ব ১ হয় ; তাহলে চৌকিদার চোর হ্যায় পর্ব দুই হল অগুস্তা । আসলে মোদী সরকার ইডি সিবিআইকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে যে আনছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই ।

 


শেয়ার করুন
  • 67
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment