উত্তরাখণ্ডের গ্রামে গ্রামে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে অহিন্দুদের প্রবেশ নিষেধ বিজ্ঞপ্তি, শোরগোল দেশজুড়ে!
বিশেষ প্রতিনিধি : বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডের রুদ্র প্রয়োগের গ্রামে গ্রামে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে অহিন্দুদের প্রবেশ নিষেধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় হিন্দুরা। বলা হচ্ছে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে লেখা হয়েছে এই সব গ্রামে প্রবেশ করতে পারবেন না কোন অহিন্দু নাগরিক এবং রোহিঙ্গা মুসলিম ও হকাররা।স্বাভাবিকভাবেই এই সাইনবোর্ড ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ধরনের সাইনবোর্ড যে পড়েছে, সেটা মেনে নিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও। তাঁদের দাবি, বহু জায়গায় সাইনবোর্ড সরানো হয়েছে।
রুদ্রপ্রয়াগ মূলত হিন্দুপ্রধান এলাকা। প্রতিবছর বহু পুণ্যার্থী এই এলাকায় যান। সেই রুদ্রপ্রয়াগেই অহিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ডাক। জানা গিয়েছে, রুদ্রপ্রয়াগের বহু গ্রামে এই একই ধরনের সাইনবোর্ড পড়েছে। তাতে লেখা, “অহিন্দু, রোহিঙ্গা মুসলিম এবং হকারদের প্রবেশ নিষেধ। যদি এই ধরনের কাউকে গ্রামে দেখা যায়, তাহলে শাস্তিমুলক পদক্ষেপ করা হবে।” স্থানীয় গ্রামসভার নামে এই সাইনবোর্ডগুলি দেওয়া হয়েছে। যদিও কারা এর নেপথ্যে স্পষ্ট নয়।
স্বাভাবিকভাবেই এই সাইনবোর্ড কাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছে স্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, রাজ্যে মুসলিমদের পক্ষে বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। ক্রমাগত তাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য দ্রুততার সঙ্গে এ নিয়ে পদক্ষেপ করছে বলে দাবি। রুদ্রপ্রয়াগ পুলিশ স্বীকার করে নিয়েছে, এই ধরনের সাইনবোর্ড কিছু গ্রামে পড়েছে। ইতিমধ্যেই বহু সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাকিগুলি সরানোর কাজ চলছে। কারা এই সাইনবোর্ডের পিছনে সেটারও খোঁজ করছে পুলিশ।
এর আগে কানোয়ার যাত্রা চলাকালীন এই উত্তরাখণ্ডেই বহু মসজিদ ঢেকে দেওয়া হয়েছিল সাদা কাপড়ে। সে নিয়েও বিস্তর বিতর্ক হয়। এই ধরনের কাজ ভারতীয় সংবিধানে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ তা সত্ত্বেও বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নিশানা করে এই ধরনের সাইনবোর্ড বা পোস্টার টাঙ্গানো হচ্ছে তা বোধগম্য হচ্ছে না। যদিও ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কানোয়ার যাত্রা কালীন সময়ে ফুটের ধারে বসে থাকা ব্যবসায়ীদের নাম ও পরিচয় লিখে রাখার যে নির্দেশিকা উত্তরাখণ্ড ও উত্তর প্রদেশ সরকার দিয়েছিল তা বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপরেই এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অ হিন্দুদের গ্রামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করল উত্তরাখণ্ডের কিছু হিন্দু সংগঠন।

