কলকাতা 

সারা বছর ধরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী পালনের উদ্যোগ রাজ্য সরকারের

শেয়ার করুন

রাজ‍্য রাজনীতি তথা প্রশাসনিক মহলে এক নজিরবিহীন ও অতীব তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ‍্যের সমস্ত জেলা, ব্লক এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ‍্যালয় সহ নানা এডুকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলিতে বছরভর সাড়ম্বরে উদযাপিত হতে চলেছে ডঃ শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী (Syama Prasad Mookerjee 125th Birth Anniversary)। নবান্নের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের তরফ থেকে এই মর্মে একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

নবান্ন (Nabanna) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন রাজ‍্য মন্ত্রিসভার (Cabinet Decision No 27) বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তার ওপর ভিত্তি করেই ২৩ জুন তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের সই করা এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্কুল থেকে বিশ্ববিদ‍্যালয়: বিশেষ অধিবেশন ও মেমোরিয়াল লেকচার। নবান্নের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ‍্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকারি স্পনসরড স্কুল, কলেজ, পলিটেকনিক, আইটিআই (ITI) এবং বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোতে ডঃ শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও দেশের প্রতি তাঁর অবদানকে স্মরণ করে বিশেষ অধিবেশন বা ‘স্পেশাল অ্যাসেম্বলি’ আয়োজন করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মূলত চারটি কর্মসূচি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।রাজ‍্যের সমস্ত কলেজ এবং বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোতে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ওপর বিশেষ বক্তৃতার আয়োজন করতে হবে।

সমস্ত স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা লিখন, বিতর্ক সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন বাধ্যতামূলক।

বাংলা এবং ইংরেজি, উভয় ভাষাতেই তাঁর জীবনী ও কর্মজীবন সংক্রান্ত শিক্ষামূলক বুকলেট বা পঠনসামগ্রী প্রকাশ করতে হবে।

রাজ‍্যের সরকারি বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোতে প্রতি বছর ডঃ শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে বার্ষিক মেমোরিয়াল লেকচার বা স্মারক বক্তৃতার স্থায়ী ব‍্যবস্থা চালু করতে হবে।

গঠন করা হল উচ্চপর্যায়ের জেলা কমিটি, আমন্ত্রণ পাবেন মন্ত্রী-বিধায়কেরা।

উদযাপনের রূপরেখা খতিয়ে দেখতে এবং তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য রাজ‍্যের প্রতিটি জেলায় একটি করে ‘ডিস্ট্রিক্ট লেভেল শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ‍্যায় ১২৫ সেলিব্রেশন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। নবান্নের নির্দেশিকায় কমিটির গঠন কেমন হবে, তাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে:

চেয়ারপার্সন বা সভাপতি: সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক (DM)।সদস‍্যবৃন্দ: জেলার পুলিশ সুপার (SP) বা পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM), মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH), পুরসভার কমিশনার বা এগজিকিউটিভ অফিসার, মহকুমা শাসক (SDO), এবং জেলা বিদ‍্যালয় পরিদর্শক (DI Secondary/Primary)।

মনোনীত সদস‍্য: জেলাশাসক দ্বারা মনোনীত এলাকার সাংসদ (MP) এবং বিধায়কেরা (MLA) এই কমিটির সদস‍্য হবেন।

সদস‍্য সচিব: জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক (DICO)।কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, জেলা, মহকুমা, পুরসভা বা ব্লক স্তরে আয়োজিত এই সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও সেমিনারের উদ্বোধনে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় বিধায়কদের অবশ‍্যই আমন্ত্রণ জানাতে হবে। জেলা স্তরের পাশাপাশি লাইব্রেরি ও মিউজিয়ামের মাধ্যমেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রচার চালানো হবে।

হেরিটেজ সংরক্ষণ ও ডিজিটাল আর্কাইভের ওপর জোর।শুধুমাত্র অনুষ্ঠান বা বক্তৃতাই নয়, নবান্নের এই নির্দেশিকায় ডঃ শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত সমস্ত স্থান এবং ঐতিহ্যবাহী স্মারকগুলোকে সংস্কার ও সংরক্ষণের (Restoration and Preservation) কথা বলা হয়েছে। তাঁর জীবন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, জনসেবা ও রাষ্ট্রগঠনে তাঁর যে অবদান, তা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে একটি স্থায়ী গ্যালারি বা প্রদর্শনীর ব‍্যবস্থা করা হবে। এছাড়া তাঁর সমস্ত ঐতিহাসিক নথিপত্র, বক্তৃতা এবং চিঠিপত্রগুলোকে ডিজিটাইজড (Digitization) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রাজ‍্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্মারক ফলক বা ‘কমেমোরেটিভ প্ল্যাক’ বসানো হবে।

ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকার কপি রাজ‍্যের সমস্ত অতিরিক্ত মুখ্য সচিব, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, মহকুমা শাসক (SDO), ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) এবং জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিকদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবান্নের এই নির্দেশিকা যেমন প্রশাসনিক দিক থেকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আগামী দিনে রাজ‍্য রাজনীতির চালচিত্রেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ