সমাজ কল্যাণে গান কবিতার অবদান শীর্ষক সাহিত্য অনুষ্ঠান
সংবাদদাতা বাংলার জনরব: আমরা যদি জীবনের অনুসঙ্গগুলো দেখতে চাই তাহলে দেখব প্রতিটি মানুষ ধর্মীয় ভাবাবেগে বিশ্বাসী এবং পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ ধর্মগ্রন্থ পাঠে একটা সুরের মায়াডোরে বাঁধা। পৃথিবীতে যত ধর্মগ্রন্থ এসেছে প্রতিটি ধর্মগ্রন্থই এক একটা সুরে বাঁধা। ধর্মগ্রন্থ পাঠে যে সুর আকৃষ্ট করে ধর্মানুরাগী শ্রোতাকে । তাই বলা যেতে পারে এই সুরের ক্রমবিবর্তনের ফসল সঙ্গীত। আবার কবিতা বা গীতি কবিতায় তাল লয় সহযোগে সুরারোপিত হয়েই সঙ্গীতে রূপান্তরিত হয়। গান কবিতা মানুষকে প্রভাবিত করার এক প্রাচীন রীতি। পরবর্তী সময়ে গদ্য সাহিত্য মানুষের ব্যবহারিক জীবনে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সুতরাং গান, কবিতা মানুষের সুষ্ঠু সমাজ জীবনে প্রতি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় উপকরণ। এই কথাগুলি ‘সমাজ কল্যাণে গান কবিতার অবদান’ শীর্ষক ২৯ জুন ২০২৪ সন্ধ্যায় বাংলার জনরবের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান মুখ্য আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক হিস্ট্রি এ্যান্ড কালচারের প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ। তিনি আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে কয়েকটি গান এবং তাঁর ‘প্রেম কিনেছি হৃদয় দামে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে তিনটি কবিতাও পরিবেশন করেন।
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টালের সাহিত্য বিভাগ দ্বারা আয়োজিত এদিনের মাসিক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি সাহিত্যিক সেখ আজমত হক ম্যাথু এ্যানাডের উক্তি ‘পোয়েট্রি ইজ দ্য ক্রিটিসিজম অফ লাইফ এ্যান্ড ইটস দ্য মিরর অফ দ্য সোসাইটি’ উল্লেখ করে বলেন সাহিত্য হল জীবনের প্রতিচ্ছবি বা সমাজের দর্পণ। আর বাংলা সাহিত্যের শুরু চর্যাপদ দিয়ে। সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে সমাজ জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে আসছে গান কবিতা। আর সেই গান কবিতা সাহিত্যিকরা রচনা করেন সমাজের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা থেকেই। উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি বাংলার কিংবদন্তি সাহিত্যিকদের কয়েকটি গান কবিতার কথা উল্লেখ করে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান। তাঁর পরিবেশিত ‘বাবা’ কবিতাটি ভীষণ অনুভূতি প্রবণ ।


আমন্ত্রিত অতিথি বিশিষ্ট কবি নীলাঞ্জন চক্রবর্তী নির্দিষ্ট বিষয় কেন্দ্রীক সংক্ষিপ্ত আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন মানবজীবনে গান কবিতার প্রভাব যুগযুগ ধরে চলে আসছে। বর্তমানে গান কবিতা বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে রোগ নিরাময়ের থেরাপি হিসেবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাই কবিতা গান মানব সমাজে অপরিহার্য উপাদান। তিনি সামঞ্জস্যপূর্ণ দুটি স্বরচিত কবিতাও পাঠ করেন। একটি ‘বিহঙ্গ স্বপন’ দ্বিতীয় টি ‘ হাসি থাকুক’।
এদিনের মূল্যবান অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এই সময়ের প্রতিভাময়ী শিল্পী রোজিনা বেগমের গান দিয়ে। রোজিনা প্রথমে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘ যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে’ , পরে তাঁর ছোড়দা কবি সামসুজ জামান রচিত এবং বড়দা মনিরুজ্জামান সুরারোপিত একখানি ফসল কাটার মাটির গান গেয়ে শোনান। দ্বিতীয় পর্যায়ে রোজিনার কন্ঠে কাজী নজরুল ইসলামের সম্প্রীতির গান ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান ‘ দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি হয়।
এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ এবং উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন বাংলার জনরবের সম্মানীয় সম্পাদক সেখ ইবাদুল ইসলাম। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুন্দর ভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলার জনরবের সাহিত্য বিভাগের সাহিত্য সম্পাদক সেখ আব্দুল মান্নান।

