কলকাতা 

বাংলায় বিজেপির পরাজয়ের নেপথ্যে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, প্রার্থী নির্বাচনে ব্যর্থতা ও মমতার বিকল্প নেতৃত্বের অভাবকে দায়ী করল আরএসএস!

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : ২৪ এর লোকসভার নির্বাচনে পশ্চিমবাংলায় আশানুরূপ ফল করতে না পারার কারণ হিসাবে দলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রার্থী নির্বাচনে ভুল এবং মমতার বিকল্প নেতৃত্ব না থাকার কারণ কে তুলে ধরেছে বাংলার আরএসএস মুখপত্র স্বস্তিকা পত্রিকা। এই পত্রিকায় দীর্ঘনিবন্ধে লেখা হয়েছে বিজেপির এই পরাজয় নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। এই ধাক্কা সামলে উঠে ২০২৬ এ যদি ভালো ফলাফল করতে না পারে তবে সেটা হবে শেষ ধাক্কা।

আরএসএসের মুখপত্র স্বস্তিকায় লেখা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প নেতৃত্ব তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে এ রাজ্যের বিজেপি। চার বছর পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প নেতা খুঁজে পাইনি কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব, তার ফলে এই ভরাডুবি বলে মনে করছে আরএসএস। একইসঙ্গে সংগঠনের মুখপত্রে বলা হয়েছে প্রার্থী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে এমন ভাবে করা হয়েছে যা আগে থেকেই মনে হচ্ছে হেরে যাবে। বাংলার জনরব এর ইউটিউব চ্যানেলে আমরা বলেছিলাম দিলীপ ঘোষকে মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বর্তমান দুর্গাপুরে প্রার্থী করা ঠিক হয়নি। এই সিদ্ধান্ত যে বুমেরাং হবে এটা অনেক আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। আর দিলীপ ঘোষের বদলে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে যাকে প্রার্থী করা হয়েছিল সেই অগ্নিমিত্রা পল যে জিততে পারবেন না সেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি দলের একটি নেতাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে যেভাবে প্রার্থী নির্বাচন ভুল করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিজেপি পরাজয় স্বীকার করেছে তা স্পষ্ট হয়েছে।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে স্বস্তিকা পত্রিকার ১৭ জুন সংখ্যায় লেখা হয়েছে, ‘২০২১—এর বিধানসভা ভোটের পর হারিয়ে যাওয়া নেতা থেকে শুরু করে, অচেনা-অজানা আর চমক দেওয়া প্রার্থী চয়নের ফলে বিজেপিকে বড়রকমের খেসারত দিতে হয়েছে।’ এতে স্পষ্ট, প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টিও পরাজয়ের অন‌্যতম কারণ বলে মনে করছে আরএসএস। কারও নাম না উল্লেখ থাকলেও এই লেখার মধ্যে নিশানায় যে শুভেন্দু তা মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি রাজ‌্য বিজেপির মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দলের বিষয়টি নিয়েও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে সংঘের মুখপত্রের নিবন্ধে। বলা হয়েছে, “মূলত সাংগঠনিক দুর্বলতায় বিজেপি ৬ আসন, আনুমানিক ১.৫ শতাংশ ভোট হারিয়েছে। সঙ্গে জুড়েছে নেতাদের ক্লৈব‌্য আর দৃষ্টিকটু অন্তর্দলাদলির কারণ। ভোটের পরেও যার রেশ চলছে।”

একইসঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে আরএসএসের মুখপাত্রে বলা হয়েছে নতুন নেতৃত্বের সন্ধান করার জন্য। স্বস্তিকায় লেখা হয়েছে, ‘পালটা নেতৃত্ব এলে বিজেপির দুর্বল সংগঠন চাঙ্গা হবে। হেরো, পলাতক আর অযোগ‌্য প্রার্থীদের বাতিল করে পশ্চিমবঙ্গের দল হিসাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে বিজেপি।’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ