আন্তর্জাতিক 

শারীরিক সম্পর্কের পর মুখ বন্ধ রাখতে পর্নতারকাকে ঘুষ দেওয়ার জন্য ব্যবসায়িক নথি জাল! আমেরিকার আদালতে দোষী সাব্যস্ত ট্রাম্প, সাজা হলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘুষ ঘুষ কাণ্ডে এবং তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক নথিপত্রে জাল করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। এই ফৌজদারী মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ফলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে। সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আদালতের এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তিনি কি শেষ পর্যন্ত নভেম্বর মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন তা নিয়ে আমেরিকায় শুরু হয়েছে জল্পনা।

তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক নথিপত্রে জালিয়াতি করার দায়ে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করেছে নিউ ইয়র্ক আদালতের ১১ সদস্যের জুরি বোর্ড। ওই মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা ৩৪টি অভিযোগের সব ক’টিই প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত। আগামী ১১ জুলাই ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা করা হবে। আমেরিকার আইন অনুযায়ী, ট্রাম্পের জেল বা জরিমানা অথবা একসঙ্গে দু’টি সাজাই হতে পারে। যে মামলায় তাঁকে ‘অপরাধী’ ঘোষণা করা হয়েছে, আমেরিকার আইন অনুযায়ী তাতে সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদ চার বছরের জেল।

Advertisement
তবে শাস্তি কি হতে পারে তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এ ক্ষেত্রে ৭৭ বছরের রিপাবলিকান নেতাকে শুধু জরিমানা দিয়েই ছাড় দিতে পারে আদালত। কারণ, প্রথমত তাঁর বয়স, দ্বিতীয়ত অপরাধের ধরন ‘অহিংস’ এবং তৃতীয়ত, এটাই তাঁর প্রথম অপরাধ। তা ছাড়া দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হিসাবে এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রতি জুরি ‘বাড়তি সহানুভূতি’ দেখাতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
আগামী ১১ জুলাই শাস্তি ঘোষণার আগে ট্রাম্প আদালতে তাঁর ‘চরিত্রের’ বিষয়ে পরিজন এবং পরিচিতদের শংসাপত্র পেশের সুযোগও পাবেন। আমেরিকার আইনে এমন শংসাপত্রে শাস্তি লাঘব হওয়ার সুযোগ থাকে। জেলের সাজা হলেও এখনই তা কার্যকর না-ও হতে পারে। আমেরিকার আইন অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে ম্যানহাটনের রাষ্ট্রীয় আপিল আদালতে আবেদন জানিয়ে স্থগিতাদেশ পেতে পারেন ট্রাম্প। বস্তুত, রায় ঘোষণার পরেই বৃহস্পতিবার ট্রাম্প উচ্চতর আদালতে আবেদনের বার্তাও দিয়ে রেখেছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত জেলে যেতে হলেও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে বাধা থাকবে না ট্রাম্পের। কারণ, সে দেশের আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলার আসামিও দেশের সর্বোচ্চ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপযুক্ত। তবে সাজাপ্রাপ্ত নেতা যদি নির্বাচিত হন, তবে ভোটের পরে কংগ্রেসের দুই কক্ষে তাঁকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে।
আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সত্তরোর্ধ্ব ওই রিপাবলিকান পার্টির নেতা। পর্নতারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পরে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তাঁর মুখ বন্ধ রাখতে ট্রাম্প ১ লক্ষ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ওই টাকা দেওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে ট্রাম্প তাঁর ব্যবসায়িক সংস্থার নথিপত্রে জালিয়াতি করেছিলেন। অবশ্য গোড়া থেকেই ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চলতি বছরের নভেম্বরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ইতিমধ্যেই ‘রিপাবলিকান ককাস’-এ ‘প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী’ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন ট্রাম্প। এ ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে আইন-বহির্ভূত ভাবে গোপন সরকারি নথিপত্র নিজের হেফাজতে রাখা, ক্যাপিটল হিংসা-সহ তিনটি ফৌজদারি মামলা এখনও আদালতের বিচারাধীন।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ