তৃণমূল নয় বামেদের সঙ্গে জোট লোকসভায় আলোচনা চলছে অধীরের মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য
বাংলার জনরব ডেস্ক : গতকাল সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেল এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যাচ্ছে অসমে কয়েকটি আসন সমঝোতার ভিত্তিতে পশ্চিমবাংলায় নাকি পাঁচটি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এই খবরের ভিত্তি দিয়ে কোন পক্ষই মন্তব্য এখনো পর্যন্ত করেননি। এদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে বহরমপুরে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মুহা সেলিমের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
তৃণমূল-কংগ্রেসের জোট-জট নিয়ে অধীর জানান, জোট নিয়ে জয়রাম রমেশ কী বলেছেন সেটা তাঁর জানা নেই। ইন্ডিয়া জোট নিয়ে জল মাপছে তৃণমুল বলেই দাবি বহরমপুরের সাংসদের। এদিকে সূত্রের খবর, কংগ্রেস আসনরফা নিয়ে তৃণমূলকে (TMC) নয়া প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে দলের তরফে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলার ৪২ আসনের মধ্যে ৬টি আসন চাইবে কংগ্রেস। তৃণমূল আগে জানিয়ে দিয়েছিল, বাংলায় কোনওভাবেই দুইয়ের বেশি আসন ছাড়া হবে না হাত শিবিরকে। কিন্তু কংগ্রেস সূত্রের দাবি, বাংলায় আসনের বদলে অন্য রাজ্যে যদি তৃণমূলকে কিছু আসন দেওয়া হয়, তাহলে বাংলায় পাঁচ আসন ছাড়তে রাজি হয়ে যেতে পারে তৃণমূল।

এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) জানিয়েছেন, “মমতার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। দরজা বন্ধ হয়নি। বারবার বলে এসেছি, এখনও বলছি। কোনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি, তবে চলছে। বাংলায় যে ছয়দিন ছিলাম, বারবার বলেছি। আপনারা শোনেনি বা বিশ্বাস করেননি। সপা, আপ নিয়েও আপনারা একই কথা বলেছেন, সমঝোতা হয়ে গেল তো? তৃণমূলের কে কী বলছে জানি না, ওদের সুপ্রিম নেত্রী বারবার বলে এসেছেন উনি ‘ইন্ডিয়া’র সঙ্গে আছেন। বিজেপিকে রুখতে সর্বতোভাবে লড়াইয়ে আছেন।” দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একথা বললেও প্রদেশ নেতৃত্বের গলায় অন্য সুর। তাঁরা তৃণমূল নয়, বামেদের হাত ধরতেই বেশি আগ্রহী, বলছে সূত্র। তাই তৃণমূলকে কার্যত সরিয়ে বামেদের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করে দিল কংগ্রেস।
যদিও এ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই মুহূর্তে বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে রয়েছে। বাংলার জলরবের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে বাম কংগ্রেস যৌথভাবে ভোটের লড়লে এই রাজ্যে কমপক্ষে ছটি লোকসভা আসন তারা জিততে পারবে। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোট হলে তৃণমূলের সেই অর্থে কোন লাভ হবে না। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি আসন তৃণমূল কংগ্রেস হারাতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। রাহুল গান্ধীর ন্যায় যাত্রার পর রাজ্যের ছটি লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের উজ্জীবন ঘটেছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।

