জেলা 

হিজাব পড়ে পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে সন্দেশখালিতে ঘুরে বেড়ালেন মীনাক্ষী! সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারলেন কী বামেরা?

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : অশান্ত কবলিত সন্দেশখালীর আন্দোলন মনে হচ্ছে যখন বিজেপি হাইজ্যাক করে নিয়েছে ঠিক তখনই হিজাব পড়ে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে মন জয় করে নিলেন ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। শনিবার সকালে অভিনব কায়দায় মীনাক্ষী সহ তার টিমের একাধিক নেতা-নেত্রী সন্দেশখালীর বিভিন্ন গ্রামে ঘুরতে থাকেন।  সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তাদের সমস্যার কথা মন দিয়ে শোনেন পুলিশ প্রশাসন কোনোভাবেই টের পাননি। এদের আগমন। শেষ মুহূর্তে যখন পুলিশ জানতে পেরেছে সন্দেশখালিতে মিনাক্ষি তখন পুরোপুরি তাদের সফর প্রায় শেষ। বিজেপির নেতারা যখন সন্দেশখালি যাওয়ার নাম করে মিডিয়াতে মুখ দেখাতে নাটক করছে ঠিক তখনই ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় নাটক না করে হিজাব পড়ে সরাসরি গ্রামের মানুষের মধ্যে ঢুকে পড়লেন। দুপুর দেড়টা নাগাদ পুলিশ মীনাক্ষী কে আটক করে ততক্ষণে বামেরা তাদের কাজ সেরে ফেলেছেন।উদ্দেশ্য কিছুটা হলেও সফল করে ফেলেছেন। সংবাদমাধ্যমে সেই ছবি দেখে উচ্ছ্বসিত আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারাও।

কিন্তু নেপথ্যে কে? কার পোশাক পরিকল্পনা? কী ভাবে ছদ্মবেশে সন্দেশখালিতে পৌঁছে গেলেন মিনাক্ষীরা?সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম দিন কয়েক আগে মিনাক্ষী এবং যুব সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি সাহাকে ডেকে স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, ‘‘আমি তোমাদের সন্দেশখালিতে দেখতে চাই। ধামাখালিতে আটকে পড়লে হবে না। সন্দেশখালিতেই পৌঁছতে হবে!’’ এ-ও জানা গিয়েছে, মিনাক্ষীদের ‘গেরিলা কায়দা’ শেখাতে সেলিম নিজের কথা উল্লেখ করে ‘ভোকাল টনিক’ দিয়েছিলেন। সেলিম তাঁদের বলেছিলেন, ‘‘আমি যদি ঘটনার পরের দিন বাইকে চড়ে বগটুইয়ে যেতে পারি, তোমরা কেন পারবে না?’’ শুক্রবার মৌলালিতে ছিল সিপিএমের যুব সংগঠনের লোকসভা নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মশালা। সেই কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত পরিকল্পনার নীল নকশা তৈরি হয়। মিনাক্ষী, ধ্রুব, পারমিতা ঘোষ চৌধুরী, অভি দেবরা (জেলা সম্পাদক) ছিলেন সেই বৈঠকে। সেখানেই ঠিক হয়, আলাদা আলাদা ভাবে সকলে যাবেন।

Advertisement

বিয়েবাড়ি, বইমেলা, দুর্গাপুজো হলে মিনাক্ষী শাড়ি পরেন। কিন্তু সাংগঠনিক কর্মসূচিতে মিনাক্ষীর পোশাক মানে চুড়িদার। ‘পালাজো’ ধরনের। গলায় ওড়না। পায়ে ফিতে-বাঁধা জুতো। কিন্তু ছদ্মবেশ ধরতেই শাড়ি পরে শনিবার সন্দেশখালি গেলেন মিনাক্ষী। ঘুরলেন গ্রামে গ্রামে।

মিনাক্ষী যে হেতু পরিচিত মুখ, তাই তাঁকে পুলিশ চিনে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল সেলিমদের। সে কথা মাথায় রেখেই বলা হয়, শাড়ি পরে, মাথায় হিজাব পড়ে মীনাক্ষী ক যেতে বলা হয়। শনিবার সন্দেশখালির গ্রামের রাস্তাতেও মিনাক্ষী যখন হেঁটেছেন, দেখা গিয়েছে হিজাব শুধু মাথা নয়, মুখও ঢেকেছে তাঁর। ধ্রুব সাধারণত পাজামা-পাঞ্জাবি পরেন। শনিবার তাঁকে দেখা গিয়েছে ট্রাউজ়ার্স-টি শার্টে।

শনিবার মুহা সেলিম বলেন, ‘‘বিজেপি যেমন ঢাকঢোল পিটিয়ে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে হইচই পাকিয়েছে, আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে যেন তা না হয়। ওরা যাতে গ্রামে পৌঁছতে পারে। কথা বলতে পারে।’’ সূত্রের খবর, দুর্বল হলেও সন্দেশখালির উত্তপ্ত এলাকায় এখনও অনেক সিপিএমের পার্টি সদস্য রয়েছেন। তাঁরাও চেয়েছিলেন মিনাক্ষী যাতে গ্রামে পৌঁছন। বস্তুত, সিপিএমও হয়তো বুঝতে পারছে, সরকার বিরোধী যে ‘আখ্যান’ তৈরি হচ্ছে সন্দেশখালিতে, তাতে বিরোধী পরিসরে ধারাবাহিক ভাবে দাগ কেটে যাচ্ছে বিজেপিই। বামেরা সেখানে খুব একটা ‘উজ্জ্বল’ নয়। অনেকের মতে, সিপিএম হয়তো এ-ও বুঝতে পারছে, বৃন্দা কারাটদের সন্দেশখালিতে পাঠিয়ে ‘ঔপচারিকতা’ হতে পারে, কিন্তু আশু উদ্দেশ্য সফল হবে না। সে কারণেই মিনাক্ষীদের পাঠাতে চেয়েছিল আলিমুদ্দিন। এর আগেও এক দিন মিনাক্ষীরা সন্দেশখালি অভিযানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সে দিন তাঁদের ধামাখালি থেকেই ফিরতে হয়েছিল। তবে শনিবার কালিন্দী পার করে সন্দেশখালির গ্রামে পৌঁছে যান তাঁরা।

তবে একথা স্বীকার করতেই হবে মুসলিম পরিবারের মেয়েরা হিজাব পড়েন বলে নানা রকম মন্তব্য করতেন সিপিএমের নেতারা আজ সেই সিপিএম নেতাদের হিজাবের আশ্রয় নিতে হচ্ছে তা অবশ্যই কৌতুহলজনক! আর এই কারণেই হয়তো ইসলাম ধর্মালম্বীরা মেয়েদের হিজাব পরার অনুমতি দিয়েছে! হিজাব আসলে কোন ধর্মীয় প্রতীক নয় হিজাব হল সাধারন মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক আত্ম সম্মানের প্রতীক। আত্ম অহংকারের প্রতীক! তাই যে বামপন্থীরা হিজাবকে নিয়ে কটাক্ষ করতেন এখন তারাই নিজেদের দলকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে হিজাবের আশ্রয় নিচ্ছেন। প্রসঙ্গত মনে পড়ে যাচ্ছে সিঙ্গুর আন্দোলনের কথা! এই সিঙ্গুরে যখন বামপন্থী সরকার বিরোধীদের যেতে বাধা দিচ্ছিল ঠিক সেই সময় মেধা পাটেকার হিজাব পড়ে সিঙ্গুরে ঢুকে পড়েছিলেন তখন দেশের এই সম্মানীয় সমাজসেবীকে কটাক্ষ করেছিলেন বিমান বসুরা! কালেরচক্রে আজ তাদের দলকেই হিজাবের আশ্রয় নিতে হচ্ছে!


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ