রাহুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ অসমের মুখ্যমন্ত্রীর, আমি ভয় পাই না পাল্টা রাহুল, কংগ্রেসের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রাকে কি ভয় পাচ্ছে বিজেপি ?
বিশেষ প্রতিনিধি : রাহুল গান্ধীকে কি ভয় পাচ্ছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। তা না হলে সমগ্র দেশ জুড়ে রাম মন্দিরের হাওয়ায় যখন বিজেপি উজ্জীবিত। ঠিক তখনই অসমে রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা ক্রমাগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। গতকাল মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেবার পর আজ অসমের রাজধানী শহর গুয়াহাটিতে রাহুল গান্ধীর যাত্রা প্রবেশ করতে দেয়া হলো না।
শুধু গুয়াহাটি শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হল না এটা বড় কথা নয় বড় কথা হলো রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এই মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা বর্তমান বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি গতকালই রাহুল গান্ধীকে রাবণ বলে কটাক্ষ করেছিলেন আজ ২৩ শে জানুয়ারি মঙ্গলবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা দায়ের করা হলো।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা যে অসমে অসম্ভব জনপ্রিয়তা পাবে তা কল্পনাতীত ছিল বিজেপির কাছে। কিন্তু দেখা গেল মনিপুর থেকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই যাত্রা মেঘালয় নাগাল্যান্ড হয়ে যখন অসমে পৌঁছালো তখন জনজোয়ার। আর এতেই অনেকটাই ব্যাক ফুটে চলে গেছেন হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। কারণ এই রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির ভোটের তফাৎ মাত্র এক শতাংশের কম।
এর আগে পর্যন্ত রাহুল গান্ধী কোন সময়ই একটানা এতদিন অসমে থাকেননি ফলে তার জনপ্রিয়তা এবং কংগ্রেসের বিধি যে পাচ্ছে এতেই ভয় পাচ্ছে বিজেপি। তাই রাহুল গান্ধীর সফর চলাকালীন সময়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অসীম সফরে গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে একরুদ্ধ দ্বার বৈঠকও করেছিলেন। সব মিলিয়ে অসমের রাজনীতিতে রাহুল গান্ধীর সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যদিও অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার টুইটের পর রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন আমি কোন মামলায় ভয় পাই না।হিমন্তের ওই নির্দেশের পরে রাহুল বলেন, ‘‘আমাকে মন্দির, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এটি ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’কে ভয় দেখানোর কৌশলের অঙ্গ। কিন্তু আমরা ভয় পাই না।’’ মঙ্গলবার রাজধানী গুয়াহাটিতে সাংবাদিক বৈঠক করার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থাকলেও রাহুলকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করে হিমন্তের পুলিশ। পাঁচ হাজার কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করতেই পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। আর তার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাহুলের ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’র জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগ করে পুলিশ। আহত হন কংগ্রেসের বেশ কয়েক জন নেতা-কর্মী।
গুয়াহাটি শহরে রাহুল গান্ধীর কাফেলা প্রবেশ করতে না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অসম প্রশাসন বলেছে যানজট সৃষ্টি হতে পারে এই কারণেই বাধা দেয়া হয়েছে। তবে গতকাল মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার পর আজকে শহরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার জন্য কংগ্রেস কর্মীরা উত্তাল হয়ে পড়ে। কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে অসম পুলিশের রীতিমত ধস্তাধস্তি ঘটে যায়। আর এরপরেই হেমন্ত বিশ্ব শর্মা টুইট করে জানিয়ে দেন রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি নাকি ডিজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

