দেশ 

কৃষি আইনের পর পরিবহন বিল নিয়ে পিছু হঠছে কেন্দ্র! দেশজুড়ে ট্রাক চালকদের আন্দোলনে লোকসভা ভোটের আগে চাপে বিজেপি!

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিরোধীশূন্য সংসদে পাস হওয়া পরিবহন আইন শেষ পর্যন্ত ট্রাক চালকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহারের পথে চলেছে কেন্দ্র সরকার। কৃষি আইন প্রত্যাহারের পর কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে পরিবহন বিল প্রত্যাহারের করতে হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। দেশের ৩৫ লক্ষ ট্রাকচালক যেভাবে রাস্তায় নেমে গত দুদিন ধরে আন্দোলন করলেন সমগ্র দেশের সমস্ত স্তরকে স্তব্ধ করে দিলেন। তাতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিরোধীদের পাত্তা না দিলেও জনমতের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

গতকালই মঙ্গলবার ট্রাক চালক ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র সচিব সেখানে আশ্বাস দেয়া হয়েছে এই আইন পুনর্বিবেচনার। তারপরই ট্রাক চালু করা ধর্মঘট প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মনে করা হচ্ছে আজ তেশরা জানুয়ারি থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

Advertisement

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা মঙ্গলবার অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে তিনি ট্রাকচালকদের জানান, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গী আইন কার্যকর করার আগে বিবেচনা করা হবে। অজয় বলেন, ‘‘নতুন আইন এখনও কার্যকর হয়নি। ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১০৬/২ ধারা কার্যকর করার আগে অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’

‘হিট অ্যান্ড রান’-এর ঘটনায় নতুন আইনের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে বেশ কয়েকটি পরিবহণ সমিতি প্রতিবাদ করছে। ভারতীয় দণ্ডবিধিকে সরিয়ে আনা ন্যায়সংহিতার একটি আইনে বলা হয়েছে চালকের ভুলে গাড়ি দুর্ঘটনা হলে এবং সেটা পুলিশ বা প্রশাসনের কোনও আধিকারিককে না জানিয়ে যদি তিনি পালিয়ে যান, সে ক্ষেত্রে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আগে আইপিসি বা ভারতীয় দণ্ডবিধিতে এই ধরনের মামলায় শাস্তির মেয়াদ ছিল দু’বছর। বেসরকারি পরিবহণ সংগঠনগুলির দাবি, এই আইনের ফলে চালকেরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং তাঁদের উপর অন্যায় ভাবে শাস্তির কোপ পড়তে পারে। তাদের আরও যুক্তি, দুর্ঘটনার পর কোনও গাড়িচালক আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁরা গণপিটুনির শিকার হতে পারেন। বস্তুত, কেন্দ্রীয় পরিবহণ নীতির বিরোধিতায় দেশের যত্রতত্র ট্রাক এবং লরিচালকদের বিক্ষোভ-আন্দোলন চলছে। তাতে বাদ নেই বাংলাও। প্রত্যেক দিনই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাক চালকদের বিক্ষোভের খবর মিলছে।

বিক্ষোভ প্রশমনে কেন্দ্রের উদ্যোগ প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেসের সভাপতি অমিত মদন বলেন, ‘‘আপনারা শুধু চালক নন, আপনারা আমাদের সৈনিক। আমরা চাই না যে আপনারা কোনও রকম সমস্যার মুখোমুখি হন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিষয়টি এখনও মুলতুবি রেখেছেন। অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেসের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত ওই আইন কার্যকর করা হবে না।’’


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ