জেলা 

সপ্তমীর ভোরে দুঃসাহসিক ডাকাতি কল্যাণীর সোনার দোকানে, তদন্তে পুলিশ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : রাজ্যে কয়েক মাস ধরে ডাকাতির ধারাবাহিকতা চলছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কতখানি যে গলদ রয়েছে তা আবারও প্রমাণ করলো আজ শনিবার। রাজ্যজুড়ে উৎসবের মেজাজ আজ শনিবার সপ্তমী। আর এদিনই দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে গেল কল্যাণী শহরে।

কয়েক সপ্তাহ আগে নদীয়া জেলার রানাঘাটে এক সোনার দোকানের ডাকাতি হয়েছিল। আর আজ শনিবার একই জেলার কল্যাণী শহরে সোনার দোকানে ডাকাতি হল। নিরাপত্তারক্ষীদের বেঁধে রেখে আট জন দুষ্কৃতী সোনার দোকানের তালা ভেঙে অবাধে লুটপাট চালান। দোকানের ভল্টে রাখা নগদ সাড়ে তিন লক্ষ টাকা এবং বেশ কিছু রুপো এবং সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেন দুষ্কৃতীরা। শনিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ খবর পৌঁছয় দোকানের মালিকের বাড়িতে। খবর দেওয়া হয় কল্যাণী থানায়। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে দোকানের নিরাপত্তারক্ষীদেরও।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কল্যাণীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দীনবন্ধু দেবনাথের কল্যাণী পৌর এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাঁঠালতলা বাজার এলাকায় একটি সোনার দোকান আছে। অভিযোগ, শনিবার ভোর ৩টে নাগাদ বাজারের রাতপাহারার দায়িত্বে থাকা চার নিরাপত্তারক্ষীকে দুষ্কৃতীরা বেঁধে রেখে সোনার দোকানের দরজা গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে ভিতরে ঢোকে। নিরাপত্তারক্ষীদের মোবাইল ছিনিয়ে নেন দুষ্কৃতীরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে লুটপাট চালানোর পর দোকানের ভোল্টের মধ্যে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নগদ এবং কয়েক লক্ষ টাকার সোনার এবং রুপোর গয়না নিয়ে চম্পট দেন তাঁরা। এক নিরাপত্তাকর্মীর দাবি, দুষ্কৃতীদের প্রত্যেকের মুখ ঢাকা ছিল, প্রত্যেকের হাতে ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র। তারা সঙ্গে করে দরজা ভাঙার বিভিন্ন সরঞ্জাম এনেছিল বলে জানিয়েছেন ওই নিরাপত্তাকর্মী। তিনি আরও জানান যে, দুষ্কৃতীরা নিজেদের মধ্যে হিন্দিতে কথাবার্তা বলছিলেন। সকাল ৬টা নাগাদ এক নিরাপত্তারক্ষী দোকানের মালিককে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। সঙ্গে সঙ্গেই দোকানে পৌঁছন মালিক, খবর পৌঁছয় কল্যাণী থানাতেও।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্থানীয় দুষ্কৃতীদের একটি চক্র এই ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। নিরাপত্তারক্ষীদের বিভ্রান্ত করতে তাঁরা নিজেদের মধ্যে অন্য ভাষায় কথাবার্তা বলেছে। সোনার দোকানটিতে ডাকাতির আগে ওই এলাকায় বেশ কয়েকবার দুষ্কৃতীরা রেইকি করে গিয়েছে বলেও প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। দুষ্কৃতীদের খোঁজে ইতিমধ্যে এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে তল্লাশি। নিরাপত্তারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সূত্র খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। দেখা হচ্ছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজও। সোনার দোকানটির মালিক দীনবন্ধু বলেন, “আমার সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। দোকানে যথেষ্ট মজবুত নিরাপত্তা ছিল। বড় রকমের প্রস্তুতি নিয়ে আমার সোনার দোকানে লুট করা হয়েছে। আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিক।”

সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনা নদিয়ায় নতুন নয়। চলতি বছরের ২৯ অগস্ট রানাঘাট শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্র রথতলা রেলগেট এলাকায় ভরদুপুরে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ক্রেতা সেজে সোনার দোকানে ঢুকে প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীকে কব্জা করে ফেলেন দুই দুষ্কৃতী। এর পর একে একে ভিতরে ঢোকেন আরও পাঁচ থেকে সাত জন! দোকানের প্রায় ৯০ শতাংশ গয়নাই তাঁরা লুট করে নেন বলে অভিযোগ। পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করে ধরা হয় দুই দুষ্কৃতীকে। পরে গ্রেফতার করা হয় আরও তিন জনকে। সেই ঘটনার এখনও তদন্ত চলছে।

এই উৎসবের মরশুমে প্রশাসনের উচিত ছিল আরো বেশি সতর্ক হওয়া বিশেষ করে এই নদীয়া জেলার মতো সীমান্তবর্তী জেলার ক্ষেত্রে। বারবার ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষকে প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ