Israel vs Palestine: ইসরাইলের উপর লেবানন, ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠনের হামলা, সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা ইরাকের সশস্ত্র সংগঠনের, মধ্যপ্রাচ্য কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে! গাজায় হামলা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে হুংকার ইরানের
বুলবুল চৌধুরী : ইসরাইল ফিলিস্তিনের যুদ্ধ এখন দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠতে চলেছে। ইসরাইলের হাতে যদিও আধুনিক মারণাস্ত্র রয়েছে তা সত্ত্বেও যেভাবে এই রাষ্ট্রটির প্রতিবেশীরা একের পর এক ফিলিস্তিনের হয়ে যুদ্ধে নেমে পড়েছে তাতে অবশ্যই সংকটে পড়তে চলেছে ইসরাইল।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরাকের এক সশস্ত্র সংগঠন। একথা কার্যত মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিয়েছে, তারা বলেছে ইরাকের দিক থেকে কয়েকটি ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র সিরিয়ার মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে এই হামলায় তাদের খুব বেশি ক্ষতি হয়নি, কয়েকজন আহত হয়েছেন এক মার্কিন নাগরিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, সিরিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০০ সেনা রয়েছে। এখন এই ন’শোর সেনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ ইরাক এবং পার্শ্ববর্তী সশস্ত্র সংগঠন গুলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিনের উপরে হামলা বন্ধ না হলে তারা মার্কিন সেনা ঘাঁটি গুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। এ তো গেল মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন ।
অন্যদিকে কয়েক দিন ধরেই লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ হুমকি দিচ্ছিল ফিলিস্তিনে বোমাবর্ষণ বন্ধ না হলে তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। এই হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে পাল্টা লেবাননের উপরে রকেট হামলা করে ইসরাইল। এরপরই লেবাননের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহ সংগঠন ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইসরাইলের উপর। আজ শুক্রবার সকাল থেকে ক্রমাগত হামলায় কার্যত ইসরাইল অসহায় হয়ে পড়েছে। লেবাননের দিক থেকে কুড়িটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইল একটি শহরে পড়েছে। হুদহুদ নামে এই শহরের সীমান্তবর্তী এলাকার থেকে ইসরাইলি নাগরিকদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে।
এদিকে লেবানন হিজবুল্লা সংগঠন তারা আস্তে আস্তে ইসরাইলের দিকে এগিয়ে আসছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইসরাইল ক্রমাগত পিছু হঠছে। এরপরই ইয়েমেনের দিক থেকে ইসরাইলের উপরে রকেট হামলা চালানো হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। এদিকে ওআইসি ঘোষণা করেছে ইসরাইল ফিলিস্তিনের উপর বোমা বর্ষণ বন্ধ না করলে তারা কড়া পদক্ষেপ নেবে। ইরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে গাজা ভূখণ্ডে আক্রমণ বন্ধ না করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।
অন্যদিকে গত পরশুদিন অর্থাৎ বুধবার গাজায় যে হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করা হয়েছিল এবং প্রায় ৮০০ জন মানুষ মারা গিয়েছিল। কারা এই বোমাবর্ষণ করেছিল তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল সব পক্ষের মধ্যেই। যদিও মুসলিম দেশগুলো বার বার বলে আসছিল এই বোমাবর্ষণের জন্য ইসরাইল দায়ী। অন্যদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু আল জাজিরা সংবাদ চ্যানেলের পক্ষ থেকে বিশদে অনুসন্ধান চালানোর পর তারা স্পষ্ট দাবি করেছে যে বোমা ওই হাসপাতালে ফেলা হয়েছে সেটা আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা বোমা। এই দাবি সামনে আসার পরে মুসলিম বিশ্বে আরো অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
আফ্রিকা মহাদেশের একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র অবিলম্বে ফিলিস্তিনের উপর বোমা বর্ষণ বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টও স্পষ্ট করে বলেছেন ফিলিস্তিনে যা চলছে তা মানবাধিকারকে হরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে আজ শুক্রবার বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সনক সৌদি আরব সফরে গিয়েছেন। তবে সৌদি সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসরাইল যেভাবে ফিলিস্তিনির উপর বোমা বর্ষণ করছে তাতে এই এলাকার শান্তি সংহতি বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

