২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে জেলা সভাপতিদের বদল করলেন সুকান্ত, এখনই রাজ্য সভাপতি বদন নয়!
বাংলার জনরব ডেস্ক : ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। জানা গেছে, সুকান্ত মজুমদারকে মোদি মন্ত্রিসভার সদস্য করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি নাকি বলেছেন মাত্র ৮ মাসের জন্য মন্ত্রী হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয় বরং রাজ্য বিজেপির সভাপতি থাকাটাই উপযুক্ত জায়গা বলে তিনি মনে করেন। তাই আজ কার্যত বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়ে দিলেন ২০২৪ পর্যন্ত রাজ্য সভাপতি কোন পরিবর্তন হবে না।
একইসঙ্গে তিনি সাংগঠনিক স্তরে ব্যাপক পরিবর্তন করলেন। তেরোটি জেলার জেলা সভাপতিদের সরিয়ে দিলেন সুকান্ত মজুমদার কার্যত নিজের হাতে সমস্ত সংগঠনের রাশ নিয়ে নিলেন। কাঁথি-তমলুক-আরামবাগ-নদিয়া দক্ষিণে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠরা এলেও সিংহভাগ জেলায় নিজের অনুগতদেরই সভাপতির পদে বসালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

শনিবার বিজেপির তরফে নতুন জেলা সভাপতিদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে আলিপুরদুয়ার, শিলিগুড়ি, বারাসত, বনগাঁ, ব্যারাকপুর, দক্ষিণ কলকাতা, মথুরাপুর, হাওড়া শহর, তমলুক, কাঁথি, আরামবাগ, বিষ্ণুপুর এবং আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতিদের বদলে দেওয়া হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে যে এলাকায় খারাপ ফলাফল হয়েছিল, এবং যে যে এলাকায় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দলের সংগঠনের অবনতি হয়েছে, সেই এলাকাগুলিতে জেলা সভাপতি বদলেছে গেরুয়া শিবির।
শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের দুটি সাংগঠনিক জেলাতেই বদলেছে সভাপতি। দুই জেলাতেই সভাপতির পদে আনা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠদের। তমলুক জেলা বিজেপির সভাপতি হয়েছেন তাপসী মণ্ডল, কাঁথির জেলা সভাপতি হলেন অরূপ কুমার দাস। বদলেছে পাশের পশ্চিম মেদিনীপুরের ও ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতিও। ঘাটালের হলেন তন্ময় দাস, মেদিনীপুর জেলা বিজেপির জেলা সভাপতি হলেন তাপস মিশ্র।
এমনিতে বিজেপিতে অঘোষিত একটা রীতি মোটামুটি মেনে চলা হত। জনপ্রতিনিধিদের সচরাচর দলের সংগঠনে রাখা হত না। কিন্তু এবারের তালিকায় দেখা যাচ্ছে ৬ জেলায় বিধায়কদের সভাপতি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক মনোজ টিজ্ঞাও। উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরই দিল্লি থেকে ব্লক ও জেলাস্তরে সংগঠনে রদবদলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেইমতো ব্লকস্তরে রদবদল হয়েছে ইতিমধ্যেই। সেটা নিয়ে বিস্তর ক্ষোভবিক্ষোভও দেখা গিয়েছে। এখন দেখার জেলা সভাপতি বদলের পর কী হয়!

