ধাপ্পাবাজ বিজেপির থাবা থেকে বাংলাকে বাঁচানোর আহ্বান জানালেন জাহাঙ্গীর খান
বিশেষ প্রতিনিধি : শিয়রে কড়া নাড়ছে লোকসভা নির্বাচন। সেখানে লড়াইয়ের জন্যে সংগঠনের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই সংগঠনের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সংগঠিত করে নেওয়ার প্রাথমিক পর্যায় হ’লো পঞ্চায়েত নির্বাচন।এখানে সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে নারাজ প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল।
শাসক দলের নিরবচ্ছিন্ন জনসংযোগ, দাপট, আপামর জনসাধারণের সুবিধার্থে গ্রহণ করা গুচ্ছ গুচ্ছ প্রকল্পের প্রভাবে অনেকাংশে বিরোধী দলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে দেখা গেছে।
ক্ষেত্র বিশেষে ‘ভাঙ্গড়’ কান্ড ঘটলেও প্রভূত জায়গায় শাসক দলের দাপটের কাছে বিরোধীদের নতিস্বীকার করতেও দেখা গেছে।

বিশেষতঃ দক্ষিণ ২৪ পরগণার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শাসকদল অপ্রতিদ্বন্দ্বী রয়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে একাধিক তত্ত্ব উঠে এলেও বাস্তব হ’লো, শাসক দলের সামগ্রিক আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।
জেলার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের একাধিক বিধানসভা এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হলেও বেশিরভাগ জেলাপরিষদ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
দক্ষিণ২৪পরগণা জেলার দক্ষ সংগঠক হিসাবে পরিচিত জাহাঙ্গীর খান এখন নির্বাচনী প্রচারে জেলার একটা বড় অংশ জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এদিন কাশিপুর-আলমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কর্মীসভায় তিনি বিরোধীরা নির্বাচন চায়ছেনা বলে দাবী করেন। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি। সাফল্যের নিরিখে তৃণমূলের জনপ্রিয়তা দেখে নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে বিরোধীরা রণেভঙ্গ দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। উপস্থিত বিধায়ক অশোক দেবও একই সুরে কথা বলেন।
জাহাঙ্গীর খান এদিন চাঁছাছোলা ভাষায় বিজেপির জনবিরোধী নীতি এবং ধাপ্পাবাজীর সমালোচনা করেন। মানুষ সমর্থন করলে লক্ষ্মীর ভান্ডারে দু’হাজার টাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি ন’বছর আগে নরেন্দ্র মোদির পনেরো লক্ষ টাকা দেওয়ার আশ্বাস স্মরণ করিয়ে বলেন, মানুষের সঙ্গে ধাপ্পাবাজীতে বিজেপির জুড়ি মেলা ভার।
মা মাটি মানুষের সরকারের কাছে আপ্লুত মানুষ এমনিতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে দুয়া-আশীর্বাদ, সমর্থনে ভরিয়ে দেবে। বুথস্তর থেকে প্রত্যেকটা তৃণমূল সৈনিকের নৈতিক দায়িত্ব মানুষের পাশে থাকা। একই সঙ্গে তিনি মোদির ইডি, সিবিআই এর জাদু দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্রের সমালোচনা করেন।

