রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে রবিবার বিকেলে তলব রাজ্যপালের, পদত্যাগ করবেন কী?
বাংলার জনরব ডেস্ক : রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে তলব করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। গত ১৭ই জুন রাজ্যপাল নির্বাচন কমিশনারকে তলব করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার সময়ের অভাব দেখিয়ে যাননি, বলেছিলেন অন্য দিন যাবেন কিন্তু অন্য দিনেও তিনি যাননি। ফলে আজ সন্ধ্যায় রাজভবন থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে কাল বিকেলে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। মনে করা হচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা রবিবার বিকেলে রাজ্যপালের কাছে যাবেন।
সকাল থেকে একটা মহলের গুজব ছড়িয়েছিল যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব ও সিনহার নাকি পদত্যাগ করতে চলেছেন যদিও তিনি দিনশেষে পদত্যাগ করেননি তবে রাজ্যপালের এই তলবের পর আবার পদত্যাগ জল্পনা তীব্র হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে রাজ্যজুড়ে, যে অশান্তি এবং সন্ত্রাস সংঘটিত হচ্ছে এরই পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিপূর্ণ পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য রাজ্যপাল নির্বাচন কমিশনারকে তলব করেছেন।
রাজ্যপাল নিজে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য জুড়ে যে অশান্তি সংঘটিত হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা করেছেন ।একই সঙ্গে তিনি নিজের ১৬ ও ১৭ ই জুন ভাঙ্গর ক্যানিং সফরে গিয়েছিলেন। সন্ত্রাস কবলিত এই দুই জায়গায় ক্যানিং ও ভাঙ্গর সফর করে তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে সাংবাদিকদের কাছে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেছিলেন, রক্তের এই দরাদরি চলবে না এক বিন্দু রক্তের জন্য নির্বাচন কমিশনার দায়ী থাকবেন। শুধু তাই নয় এর ঠিক পরের দিনেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের জয়েনিং লেটার গ্রহণ করেন নি বা জয়েনিং লেটার এর স্বাক্ষর করেননি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
এর ফলে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ ভারতবর্ষের কোন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর তার জয়েনিং লেটার একসেপ্ট করছেন না রাজ্যপাল এমন ঘটনা এখনো পর্যন্ত ঘটেনি । কোথাও সুতরাং জয়নিং লেটার একসেপ্ট না করলে তিনি কি সত্যিই নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজ করে যেতে পারেন সেই প্রশ্নটা সামনে আসতে শুরু করেছে। যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে একবার শপথ নিয়ে নিলে তাকে সরানো খুব কঠিন একমাত্র সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব এনেই সরানো যেতে পারে।
তবে রাজ্যপাল জয়েনিং লেটার একসেপ্ট না করলে কি হবে সে ব্যাপারে পরিষ্কার কোন কথা বলা নেই সংবিধানে। আর জয়েনিং লেটার একসেপ্ট না করা হলে প্রকৃতপক্ষে তিনি যে কাজে যোগ দেননি, সেটাই প্রমাণিত হয়। সুতরাং এতদিন ধরে রাজীব সিনহা যা করেছেন সেটা কি তার এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে করেছেন এই প্রশ্নটাও সামনে আসতে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে আগামীকাল রবিবার রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই মনে করা হচ্ছে বলা হলেও তিনি কি আদৌ পদত্যাগ করবেন? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন কারণ রাজ্যপাল তার কাজকর্মের উপর সরাসরি অনাস্থা ব্যাক্ত করেছেন! নিয়োগ কর্তা যদি সরাসরি অনাস্থা ব্যাক্ত করেন সেক্ষেত্রে কি তিনি সেই পদে থাকতে পারেন সেটাই এখন দেখার।

