জেলা 

নবীন-বরণের দিনে বৃক্ষরোপন,অভিনবত্বের ছোঁয়া পাঠভবনে

শেয়ার করুন

স্নেহা দাশ এবং অনিরুদ্র কুণ্ডু: পাঠভবন ডানকুনির এ এক অভিনব উদ্যোগ। একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নবীন বরণ উপলক্ষে ৫০ টি বৃক্ষ শিশুকে রোপণ করে এক অনন্য নজির গড়ল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

নবীন বরণ, অর্থাৎ নূতনকে বরণ করা। এবার বিদ্যালয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া। এই নবাগতদের উৎসর্গ করেই, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে রোপিত হয় ওই ৫০টি নবীন কিশলয়৷ এদিন বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভসূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড: দেবব্রত মুখোপাধ্যায় মহাশয়, প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শ্রীমতি দর্পনা সিনহা্ সহ বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীরা। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন, পাঠভবন সোসাইটির প্রতিনিধি মাননীয় শ্রী বিশ্বনাথ দাশগুপ্ত মহাশয়। এছাড়া পরিবেশ কর্মী শ্রীমতি দুর্গা ঢাঁক (অবিভাবক) তিনি এই ৫০ টি বৃক্ষ শিশু বিদ্যালয়ে অনুদান করেন।

এদিন, প্রথমে বেশকিছু চারাগাছকে পাল্কিতে বসিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গন প্রদক্ষিণ করে। তারপর প্রধান অতিথি বিশ্বনাথ দাশগুপ্ত প্রথম চারগাছটি রোপণ করেন। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক ও প্রাথমিক বিভাগের প্রধান ওই শিশু বৃক্ষকে বরণ করে নেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, ছাত্রছাত্রী দের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজকে বৃক্ষরোপনের মধ্য দিয়ে শুরু হল, এটাও একটা নবীনের শুরু। একইরকম ভাবে, একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীরা বরণ করে নিল।” তবে শুধু নতুন কে বরণ করা নয়,পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “আমরা যে মানুষ, আমাদের একক অস্তিত্ব থেকে মানব সম্পদের অস্তিত্বে উন্নীত হওয়া, এটা বিদ্যালয়ের অবদান। সুতরাং, বিদ্যালয়ে আসার মধ্যদিয়ে যে প্রয়োজনীয় বোধগুলি গড়ে তুলি, সেগুলি ‘আমি’ নামক একজন বিচ্ছিম্ন মানুষকে মানব সম্পদে রূপান্তরিত করে, দেশ তথা বিশ্বের প্রয়োজন মেটাতে।” পাশাপাশি তিনি দার্শনিক অ্যারিস্টটলের কথাও ভাগ করে নেন স্কুলের পড়ুয়াদের সাথে। প্রধান অতিথি শ্রী বিশ্বনাথ দাশগুপ্ত মহাশয়ও, ছাত্র ছাত্রীদের নতুন করে ভাবনার কথা বলেন, স্মরণ করিয়ে দেন সক্রেটিস এর কথাও৷

বৃক্ষরোপনের পর একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের বরণ করে নেয় দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ারা। চন্দনের ফোটা, হাতে তৈরি কাগজের ফুল ও মিষ্ঠান্ন সহযোগে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। পাশাপাশি দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ারা এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ