কলকাতা 

‘‘আপনারা পাঁচ রাজ্য থেকে পুলিশ চেয়েছেন। আর হাই কোর্ট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে বলেছে। খরচ তো কেন্দ্র দেবে। আপনাদের অসুবিধা কোথায়?” রাজ্যের আরজি খারিজ করে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : প্রত্যাশিতই ছিল কিন্তু জনগণের টাকা খরচা করে মমতা সরকার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াটা অভ্যাসে পরিণত করে তুলেছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল রাজ্যের সমস্ত জেলাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত ভোট করাতে হবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার। আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর এবার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়াটা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। স্বাভাবিকভাবেই সেই ধাক্কা খেলো। এর ফলে রাজ্যের শাসকদলের কর্মীদের মধ্যে যে হতাশা দেখা দেবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

এই মামলার শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্টে বলে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন করা হলে সমস্যা কোথায় এ আজ মঙ্গলবার বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানিতে সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে জানিয়ে দেয়া হয় কলকাতা হাইকোর্টের রায় দিয়েছে সেলাই সঠিক এবং যথাযথ সুতরাং রাজ্য সরকার এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আবেদন খারিজ করা হলো।

বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, ‘‘আপনারা পাঁচ রাজ্য থেকে পুলিশ চেয়েছেন। আর হাই কোর্ট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে বলেছে। খরচ তো কেন্দ্র দেবে। আপনাদের অসুবিধা কোথায়? তা ছাড়া ভোটে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় বাহিনী হলে সমস্যা কোথায়?’’ রাজ্যের আইনজীবী বলেন, ‘‘রাজ্যের পুলিশ যথেষ্ট সমর্থ। পুলিশকর্মী কম থাকায় অন্য রাজ্য থেকে পুলিশ চাওয়া হয়েছে। সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হলে পরিকল্পনা বদল করতে হবে। নির্বাচনের মুখে যা সমস্যার।’’

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বলেন, ‘‘নির্বাচন ঘোষণার পরের দিনই মামলা করা হয়ে গেল। তখন মনোনয়ন পর্ব চলছে। মনোনয়ন পর্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন কেন্দ্রের ১ কিমি পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের পুলিশ সহযোগিতা করেছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হাই কোর্ট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথা বলেছে। আমাদের স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত হয়নি। আমাদের সেই কাজ চলছিল। তা ছাড়া নিরাপত্তার বিষয়টি রাজ্য দেখে। এখানে কমিশনকে সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।’’

এ কথা শোনার পর বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা আপনাদের উপর নয় তা হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে চিন্তিত কেন? আপনারা আপনাদের কাজ করুন। বাহিনী যেখান থেকে আসুন সেখানে আপনাদের অসুবিধার কোথায়?’’ এর পর, কমিশনের আইনজীবী বলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আমরাও উপযুক্ত নিরাপত্তার দাবি করি। কিন্তু এখানে হাই কোর্ট আমাদের উপর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইতে। সেটা আমরা কী ভাবে করব? এটা আমাদের কাজ নয়।’’

বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, ‘‘ভোটে কোনও রকম অশান্তি হবে সেটা আশা করা যায় না। অতীতে রাজ্যে হিংসার ঘটনার উদাহরণ রয়েছে। এই অবস্থায় হাই কোর্ট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েছে। সেখানে অসুবিধার কিছু দেখছি না।’’

রাজ্যের আইনজীবী বলেন, ‘‘কোনও বুথ, এলাকা নয়। সারা রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। রাজ্যকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে।’’ বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, ‘‘এটা তো অন্য কোনও পরিস্থিতির জন্য নয়। নির্বাচনের জন্য। এখানে অন্য ভাবে দেখবেন কেন?’’

বিজেপির আইনজীবী হরিশ সালভে বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের নীরবতার কারণেই হাই কোর্ট কেন্দ্রীয় বাহিনীর নির্দেশ দিয়েছে। ওই রাজ্যে কমিশন সম্পূর্ণ রাজ্যের উপর নির্ভরশীল। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। ভোটকে কেন্দ্র করে সেখানে একাধিক ঘটনা ঘটেছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘নির্বাচনের নির্ঘণ্ট দেখলে হাই কোর্টের নির্দেশ পরিষ্কার হবে। নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে ৮ জুন। হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে ১৫ জুন। অর্থাৎ, তার আগে পর্যন্ত তাদের কোনও পরিকল্পনায় চোখে পড়েনি। তারা স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতই করতে পারে। আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরোধিতা করে তারা বলছে সব পরিকল্পনা পূর্বের করা ছিল। কোথায় পরিকল্পনা?’’

এরপর কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে আইনজীবীরা সওয়াল জবাবে অংশ নেবেন। তারপর অংশ নেবেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনের আইনজীবী। সবার বক্তব্য শোনার পর দেশের শীর্ষ আদালত কি সিদ্ধান্ত নেয়? সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ