আন্দোলনরত কুস্তিগীরদের হঠাৎ নীরবতায় চাপে মোদি সরকার
বাংলার জনরব ডেস্ক : এবার থেকে আন্দোলনরত কুস্তিগীররা নীরবতাকে প্রতিবাদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করতে চলেছেন। গত মঙ্গলবার নিজেদের জেতা আন্তর্জাতিক পদকগুলিকে প্রতিবাদের অস্ত্র হিসাবে গঙ্গায় বিসর্জন করতে যাওয়ার সময় থেকে প্রতিবাদী এই মহিলা কুস্তিগীররা কার্যত নিরব হয়ে গিয়েছিলেন। প্রখ্যাত কৃষক নেতা নরেশ টিকড়িওয়ালের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত গঙ্গায় পদক বিসর্জন দেননি, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এই মহিলা কুস্তিগীররা। তারপর থেকেই হঠাৎই নীরবতাকেই অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছেন এইসব আন্দোলনকারীরা।
আর এতেই প্রশাসন থেকে শুরু করে শাসক বিজেপি দলের ঘুম কেড়ে নিয়েছে আন্দোলনকারীরা। প্রশ্ন উঠেছে কেন এই নীরবতা কোথায় গেল প্রতিবাদের সেই আস্ফালন। যদিও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এইসব মহিলা কুস্তিগীররা কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে এই পাঁচদিনের মধ্যে বিজেপি সাংসদ ব্রীজ ভূষণ শরন সিংহের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না নিলে আমরণ অনশনে বসার হুমকি দেয়া হয়েছে।
এদিকে দিল্লী পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে যন্তর মন্তরে এইসব প্রতিবাদীদের আর বসতে দেওয়া হবে না ইতিমধ্যেই অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন শুধুমাত্র রয়ে গেছেন সাক্ষী মালিক। তবেই নীরবতার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে আগামী দিনের আন্দোলন হয়তো আরও তীব্র হবে।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া পাঁচ দিনের সময়সীমার মধ্যে প্রায় তিন দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে কোন সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। মনে করা হচ্ছে সমাধান সূত্র বেরিয়ে না আসলে আন্দোলন আরো তীব্র হতে পারে। যদিও প্রতিবাদী কুস্তিগীররা জানিয়েছেন তারা এবার আমরণ অনশনে বসবেন।
কুস্তিগিরদের দলের এক সদস্য বলেছেন, “মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওরা কাঁদছিল। জেলাস্তরে পাওয়া পদকও ফেলে দেওয়া খুব কঠিন ব্যাপার। সেখানে আন্তর্জাতিক স্তরে জেতা পদক ছুড়ে ফেলতেও ওদের কোনও আপত্তি ছিল না। এতটাই আঘাত পেয়েছিল যে মুখ দিয়ে কোনও কথাই বেরোচ্ছিল না। মঙ্গলবার থেকেই ওরা নীরবতা পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই হরিদ্বারে গিয়ে বা ফেরার পথে কারও সঙ্গে কথা বলেনি।”
কুস্তিগিরদের প্রতি পুলিশের আচরণ নিয়ে সরব আন্তর্জাতিক অলিম্পিক্স কমিটিও। কড়া বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, কুস্তিগিরদের প্রতি পুলিশের আচরণ হতাশাজনক এবং উদ্বেগের।
এদিকে কুস্তিগীরদের মধ্যে হঠাৎ নীরবতা সরকারকে ভাবতে ভাবাচ্ছে আগামী দিনে কি আরো বড় কোন আন্দোলনের দিকে ঝাপাচ্ছেন কুস্তিগিররা? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

