কলকাতা 

Civic Volunteers : যেসব সিভিক ভলান্টিয়ার ভালো কাজ করছেন তাদেরকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! পঞ্চায়েতের আগে গিমিক বলছে বিরোধীরা

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বড় ধরনের সিদ্ধান্ত এই রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ারদের মুখে হাসি ফোটাবে। আজ সোমবার নবান্নে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রস্তাব দিয়েছেন যেসব সিভিক ভলান্টিয়ার ভালো কাজ করছেন তাদেরকে স্থায়ী পদে চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করতে বলেছেন আধিকারিকদের।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভাবনা নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। তবে ডিজিটাল আনন্দবাজারের খবর অনুসারে কবে থেকে এই চিন্তা ভাবনা কার্যকর হবে তা এখনই সিদ্ধান্ত হয়নি। সংবাদের প্রকাশ মূলত তিনটি দিক বিচার বিবেচনা করে তবেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের স্থায়ী পদে চাকরি দেওয়া হবে। স্থায়ী পদ বলতে এখানে কনস্টেবল পদের কথা বলা হচ্ছে। কারণ অনেক থানা আছে যেখানে পুলিশ কর্মীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে এবং কনস্টেবল এর সংখ্যাও কমেছে সেই সব দিক চিন্তাভাবনা করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আধিকারিকদের বলেছেন সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্যে যারা ভাল কাজ করছেন তাদের মধ্য থেকে কনস্টেবল পদে বেছে নেওয়া যায় কিনা তা নিয়েই চিন্তাভাবনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে এক্ষেত্রে তিনটি শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, নবান্নের বৈঠকে যা আলোচনা হয়েছে তাতে পদোন্নতির জন্য সিভিক ভলান্টিয়ারদের প্রথমত, কাজের ক্ষেত্রে যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। তাঁরা প্রতিটি কাজ দায়িত্বের সঙ্গে পালন করছেন কি না তার উপরেই হবে মূল্যায়ন। দ্বিতীয়ত, এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে সেই জায়গাতেই যেখানে থানায় কনস্টেবল পদ খালি রয়েছে। তৃতীয়ত, সুযোগ তাঁরাই পাবেন যাঁদের নাম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুপারিশ করবেন। এই দায়িত্ব মূলত থাকবে জেলার পুলিশ সুপারের উপরে। তিনি নির্ভর করবেন যে থানা এলাকায় ওই সিভিক ভলান্টিয়ার কাজ করছেন সেখানকার ওসি এবং এসডিপিও-র রিপোর্টের উপরে।

এখন কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় যান নিয়ন্ত্রণ থেকে পুলিশকে সাহায্য করা বা টহলদারির কাজ করেন সিভিক ভলান্টিয়াররা। অনেক জায়গাতেই তাঁদের নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সেই সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়াররা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, এমন অভিযোগও কম নেই। প্রশাসনের ধারণা, এখন পদোন্নতির প্রস্তাব দেওয়া হলে অনেকেই নিজেদের কাজে মন দেবেন।

তবে বিরোধীদের অভিযোগ হচ্ছে সামনে পঞ্চায়েত ভোট সেদিকে লক্ষ্য রেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজে লাগানোর লক্ষ্যে এই ধরনের প্রস্তাব ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের আরো অভিযোগ সিভিক ভলান্টিয়াররা প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে তবে তাদের চাকরি স্থায়ী হলে সেটা ভালো হবে বলে বিরোধীদের একাংশ মনে করছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ