শ্রমিককে নগদে বেতন দিতে হয়, চালকল ও তেল কল চালাতে নগদ লাগে আয়কর দফতরের কোটি টাকা উদ্ধার নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন
বাংলার জনরব ডেস্ক : তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের বাড়ি এবং কারখানা থেকে প্রায় ১১ কোটি টাকা আয়কর দপ্তর উদ্ধার করেছে। এই উদ্ধার নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে সরগোল করেছে ঠিক তখনই সাংবাদিক সম্মেলন করে জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন জানালেন, ব্যবসার জন্যই ওই টাকা রাখা হয়েছিল। বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি নগদে দেয়া হয়ে থাকে কয়েক হাজার বিড়ি শ্রমিক তার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে একই সঙ্গে তার রয়েছে তেল কল চাল কল সহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেগুলোর খরচ খরচা চালানোর জন্য নগদ টাকা রাখতে হয়। আর এই কারণেই তার সংস্থায় এবং বাড়ি মিলিয়ে ১১ কোটি টাকা ছিল বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
একইসঙ্গে জাকির হোসেন বলেছেন আয়কর দপ্তর আগে থেকে খবর দিয়ে তল্লাশি চালালে আমরা সব কিছুর হিসাব দিতে পারতাম তবে আদালতে আমরা এর সবকিছু হিসাব দিতে পারব। তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেছেন মুর্শিদাবাদ এর মধ্যে আমি একমাত্র ব্যবসায়ী যে সবচেয়ে বেশি আয়কর দিয়ে থাকি। সুতরাং এর মধ্যে কোন বেআইনি নেই বলে, জাকির হোসেনের দাবি।এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকিরের সুতি থানার ঔরঙ্গাবাদের বাড়িতে হাজির হন আয়কর দফতরের আধিকারিকরা। এর পর তল্লাশি শুরু হয় জাকিরের বিড়ি কারখানা, তাঁর দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি বন্ধ থাকা গুদামে। টানা ১৭ ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। আয়কর দফতর সূত্রে দাবি, ওই তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে মোট ১৫ কোটি টাকা। টাকার পাশাপাশি, বেশ কিছু নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করেছেন আধিকারিকরা। জাকিরের অবশ্য বক্তব্য, ‘‘আমার একাধিক কারখানা রয়েছে। আর সেই সব তেল এবং চালের কারখানার জন্য নগদ টাকা দিয়েই শস্য কিনতে হয়। পাশাপাশি, বিড়ি কারখানায় শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহের শেষে মজুরিও দিতে হয়। বিড়ির মশলার ক্ষেত্রেও অনেক সময় নগদে টাকা মেটাতে হয়। সেই টাকাই বিভিন্ন জায়গায় মজুত করে রাখা ছিল। এ ভাবে যদি প্রতি ক্ষেত্রে আইনের অজুহাতে বেঁধে ফেলা হয় তবে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। দেখি আদালতে কী হয়!’’
বৃহস্পতিবার জাকির হোসেন বলেন, “৭ হাজার শ্রমিক আমার। কৃষিক্ষেত্রে পুরোটাই নগদে ব্যবসা হয়। সবটাই শ্রমিকদের টাকা। কৃষকদের টাকা। চাষিরা যদি টাকা না পায় তাঁরা বিক্ষোভ করবেন। আমরা অনেককে কাজ দিই। সেই কাজ ব্যাহত না হোক, সেটাই চাইব।”

