কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি এজলাস বয়কট নিয়ে কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্যপাল, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ কমিশনারকে ডেকে ক্ষোভ প্রকাশ
বাংলার জনরব ডেস্ক : কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি এজলাস বয়কট নিয়ে কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্যপাল।মঙ্গলবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে রাজভবনে ডেকে পাঠান রাজ্যপাল। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যপাল তাঁদের বলেন, বিচারব্যবস্থাকে কখনওই সন্ত্রস্ত করা যায় না। এটা কোনওভাবেই হতে দেওয়া যায় না।
সূত্রের খবর, তিনি আরও বলেন, কারও কোনও রায় পছন্দ না হলে, উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। বিচারব্যবস্থাকে সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা, এটা পৃথিবীর কোথাও হয় না। পাশাপাশি বিচারপতি মান্থাকে উপযুক্ত সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেন রাজ্যপাল। শুধু তাই নয়, রাজ্যপাল বলেন, সেই সুরক্ষা ব্যবস্থায় বিচারপতি যেন আশ্বস্ত হন।সূত্রের খবর, পোস্টার খোলা হয়েছে কিনা, তাও জানতে চান রাজ্যপাল। স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশ কমিশনারের উত্তরে সন্তোষপ্রকাশ করেন সিভি আনন্দ বোস। তবে তিনি বিষয়টি দিল্লিতে জানাবেন বলেও জানান। সূত্রের খবর, এদিন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন রাজ্যপাল।কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির মতো সম্মানীয় এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীর বাড়ির কাছেই, তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ হয়ে যায় সম্প্রতি! আদালতে বেনজির বিশৃঙ্খলা! বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসের বাইরে পথ আটকে বিক্ষোভ দেখানো হয়! যার জেরে থমকে যায় আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া। ভুগতে হয় বিচারপ্রার্থীদের। ফলে এই ঘটনা সাধারণ মানুষের স্বার্থ এবং গণতন্ত্রের ওপর কার্যত আঘাত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবারের এই ঘটনা নিয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বস্তরে।
এই পরিস্থিতিতে এই এজলাসের সামনে আর কিছু হবে না বলে আশ্বস্ত করলেন বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক। তিনি বলেন, আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। তবে দু’ পক্ষ না থাকলে কোনও মামলার রায় না দেওয়ার অনুরোধ করছি। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে জানান বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিশ্বব্রত বসু মল্লিক। বিচারপতি বলেন, আমার অনুরোধ, আদালতের সম্মান নষ্ট করবেন না। শুধুমাত্র আমার এজলাস নয়, অন্য কোনও বিচারপতির এজলাসের সামনে যাতে এই ঘটনা না ঘটে সেদিকে নজর দিন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে হবে। মন্তব্য করেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা।

