কলকাতা 

মেডিকেল কলেজে ছাত্র আন্দোলনঃ এপিডিআর এর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট

শেয়ার করুন

(ডাক্তারি পড়ুয়াদের আন্দোলনের উপর হামলার খবর পেয়ে আজ এপিডিআর এর তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল মেডিকেল কলেজে যায় এবং আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে। কোন কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যায়নি। বলে তাদের সঙ্গে কোনো রকম ভাবে দেখা করা হয়নি।)

কলকাতার ঐতিহ্যশালী ‘কলকাতা মেডিকেল কলেজ’র ছাত্র সংসদের নির্বাচন গত ছয় বছর ধরে হয়নি। ছাত্রদের বক্তব্য শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৬ সালে।

Advertisement

সেটা নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। তারা দাবি তুলতে থাকে অবিলম্বে ছাত্র সংসদের নির্বাচন করতে হবে এবং সেই মতো তারা আন্দোলন ও সংঘটিত করে। আন্দোলনের চাপে কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে ২২/১২/২০২২ ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই মর্মে কর্তৃপক্ষ নোটিশ ও জারি করে।হঠাৎ ডিসেম্বর মাসের শুরুতে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেন সংসদ নির্বাচন করা যাবে না!

কারণ, ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে কোন সদুত্তর পাওয়া যায় নি, বলে ছাত্রদের অভিযোগ। গত ৫ ডিসেম্বর তারা প্রিন্সিপালসহ অন্যদেরকে ঐ দাবিতে ঘেরাও করে। সেই ঘেরাওয়ের মধ্যে হসপিটালের নার্সদের ইনচার্জ ও ছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদন যেহেতু কর্তৃপক্ষ বা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে নার্সেস ইনচার্জ কোনভাবেই যুক্ত নন, তাই তাঁকে আবেদন করেন ঘেরাও স্থল থেকে চলে যেতে, কিন্তু ছাত্রদের কথায় কর্ণপাত না করে প্রিন্সিপালের কথায় তিনি ওখানে থেকে যান। ঐ দিন রাতেই জনা ৪০ বাইরের লোকজনকে সন্দেহজনক ভাবে ঘুরতে দেখা যায়, বলে আন্দোলনকারী ডাক্তারি পড়ুয়াদের অভিযোগ। এরপর আতঙ্কিত ছাত্রছাত্রীরা অবস্থানের জায়গায়, সুপারের ঘরে তালা দিয়ে দেয়। পরের দিন এই ‘তালা দেওয়া’-কে হাতিয়ার করে ‘পড়ুয়ারা স্বাস্থ্য পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে’ বলে রটায়।

এরপর শুরু হয় কুৎসা, মিথ্যা এবং অপপ্রচার, কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।

প্রথমতঃ রটিয়ে দেওয়া হয় যে, এই ঘেরাওয়ের ফলে হাসপাতালের সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে! দুপুরের দিকে এই মর্মে মাইকিং করা হয়, বলে পড়ুয়ারা জানায়। যদিও ছাত্রদের সঙ্গে হাসপাতাল পরিষেবার কোন সম্পর্ক নেই।

দ্বিতীয়তঃ নার্সদেরকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংগঠিত করে ছাত্রদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। যদিও ছাত্রদের দাবির সঙ্গে নার্সদের কাজের কোন সম্পর্কই নেই! এবং ঘেরাওয়ের মধ্যে আটকে পড়া নার্সেস ইনচার্জকে পড়ুয়ারা চলে যেতে বললেও তিনি সেকথা শুনতে রাজি হননি। এটাকে হাতিয়ার করে নার্সদের সংগঠিত করে কর্তৃপক্ষ।

তৃতীয়তঃ রোগীর পারিবারদের ও পরিকল্পনা করে ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়। যদিও চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে ছাত্রদের কোন যোগ সূত্র নেই!

আন্দোলনকারীদের বক্তব্যঃ আজকে প্রিন্সিপালের কাছে ডেপুটেশন দিতে গেলে দেখা যায় যে, প্রিন্সিপাল স্যার তাঁর রুমে নেই। তিনি নাকি স্বাস্থ্য ভবনে বসে আছেন।

তাই এই ‘ছাত্র সংসদের নির্বাচন’ এর গণতান্ত্রিক দাবিকে আদায় করতে আগামী কাল ৮/১২/২২ থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন অবস্থানের ডাক দিয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ