জেলা 

রাজনগর আইডিয়াল একাডেমিতে সাড়ম্বরে বার্ষিক অনুষ্ঠান পালন

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি থানার অন্তর্গত রাজনগর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত “রাজনগর আইডিয়াল একাডেমি”-র পরিচালনায় একটি সুন্দর অনুষ্ঠান সাড়ম্বরে পালিত হলো।

একাডেমির ডাইরেক্টর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বহু গ্রন্থ প্রণেতা মাদ্রাসা বোর্ডের অন্যতম প্রাক্তন কৃতি ছাত্র মাওলানা রফিকুল ইসলাম ফাতেহির অনবদ্য পরিচালনায় সমগ্র অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এলাকায় উপচে পড়া ভিড় ছিল দেখার মত।

Advertisement

কয়েকটি পর্বে এই অনুষ্ঠানটি বিভাজিত ছিল।

প্রথম পর্বে ছিল একাডেমির শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও অভিভাবিকাদের নিয়ে একাডেমি কর্তৃপক্ষের আলাপ-আলোচনা।

দ্বিতীয় পর্বে ছিল এলাকার সমাজসেবা সহ বিভিন্নভাবে যারা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তাদেরকে সম্মাননা জ্ঞাপন করে পিছিয়ে পড়া জনজাতিকে কৃতিত্বের প্রতি উৎসাহ দেওয়া । এদিন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পাঁচজনকে স্মারকসহ বিভিন্ন উপহার দিয়ে তাদের কাজের স্বীকৃতি দেয়া হয়।(১) নাসির উদ্দিন বলদিয়া, যার উদ্যোগে এলাকার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন উন্নয়ন হয়েছে। (২) প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজরুল পাইক। যার আন্তরিকতায় এলাকায় অতুলনীয় শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। (৩) আম্মাজান কাজী। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এলাকার জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যার অবদানে উপকৃত হয়েছে। (৪) ডাক্তার মারুফ হোসেন বলদিয়া । গ্রামে প্রথম জয়েন্ট দিয়ে ( DHMS) পাস করা ডাক্তার । (৫)তহিদুর রহমান চাপরাশি। কোন কোচিং ছাড়াই নিজ প্রচেষ্টায় এবছর জয়েন্ট দিয়ে (MBBS) সুযোগ পাওয়া আগামী দিনের ডাক্তার । এদেরকে সংবর্ধনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়; যাতে পরবর্তী প্রজন্ম উৎসাহিত বোধ করে স্বীয় কাজে প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করে।

সমগ্র অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে ছাত্র-ছাত্রীদের আবৃত্তি, হাদিস ও দোয়া পাঠ, ইংরেজি বক্তব্য, নাটক ইংরেজি ব্যাকরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ছিল চোখে পড়ার মতো ও আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

এছাড়া লায়ন্স হাসপাতালের সহযোগিতায় একটি চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়।

এদিন প্রতিষ্ঠানের ডাইরেক্টর মাওলানা রফিকুল ইসলাম ফাতেহি তার বক্তব্যে বলেন : প্রতিষ্ঠানটি মূলত: তিনটি ভাবে তাদের কর্মকান্ড চালায়। (১) একাডেমি। এতে ইসলামি জ্ঞান ও মূল্যবোধ প্রথম থেকেই শিশুর মনমানসে সঠিকভাবে প্রয়োগের লক্ষ্যে বিভিন্ন দোয়া, ছোট ছোট হাদিস, ওযু ও গোসল প্রভৃতির সঠিক পদ্ধতি জেনারেল বিষয়ের পাশাপাশি পাঠ দান করা হয়। যাতে শিশু বয়স থেকেই মন-মানসে ইসলামিক চিন্তা বিকশিত হওয়ার ফলে বড় হয়েই ধর্মীয় অনুশীলন থেকে বিচ্যুত না হয়। অতিরিক্ত সিলেবাসের বোঝা কমিয়ে বাংলা ইংরেজি আরবি ও গণিতের উপর জোর দেয়া হয়। যাতে নির্ভুল বাংলা ইংরেজি ও আরবি পড়াও লেখার দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।

(২) ইয়াতিমখানা। শুধুমাত্র অনাথ বালিকাদের আবাসিক হিসেবে রেখে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা খরচে পাঠদান করানোই উদ্দেশ্য। এখানে তারা সালোয়ার ব্লাউজ কাটা ও সেলাই শিখতে পারবে ও হোমিও চিকিৎসা শেখার সুযোগও পাবে এর সঙ্গে তাদের সরকারি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান (Alternative Medical College) থেকে ডিগ্রীও করে দেয়া হবে। এখানকার পাঠ শেষে তাদের যোগ্যতা অনুসরণে সেলাই মেশিন অথবা হোমিও ঔষধ দিয়ে বিদায় জানানোর চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। আর পিতামাতাহীন বালিকার বিবাহ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

এছাড়া এলাকার মানুষের সুবিধার্থে জানুয়ারি থেকে দাতব্য চিকিৎসালয় শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়। এখানে প্রতি বৃহস্পতিবার ১০ টাকার বিনিময়ে ঔষধ সহ চিকিৎসা পরিষেবা দেয়া হবে।

এদিন অনুষ্ঠানটি নিপুণভাবে পরিচালনা করেন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও ডাইরেক্টর মাওলানা রফিকুল ইসলাম ফাতেহি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ