জেলা 

বিয়ের বাধা কাটাতে নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার গৃহশিক্ষক ও তান্ত্রিক, বিষ্ণুপুরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য রাজ্যজুড়ে

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বহু চেষ্টা করেও পাত্রীর জোটেনি তাই বিয়ে করা হচ্ছে না অগত্যা বয়স বেড়ে যাচ্ছে। গৃহ শিক্ষকতা করে রোজগার করেন এমনই এক বিয়ে পাগলা মানুষটি শেষ পর্যন্ত নিজের ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন। আর নাবালিকা ধর্ষণের কারণে ওই শিক্ষক মহাশয় কে গ্রেফতার করার পর যে তদন্ত রিপোর্ট সামনে এসেছে তাতে পুলিশের চক্ষু চড়ক গাছ হয়েছে।

বিয়ে করার জন্য ওই শিক্ষক মহাশয় শেষ পর্যন্ত দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক তান্ত্রিকের। ওই তান্ত্রিকের পরামর্শ ছিল নাবালিকার যোনির রক্তমাখা কাপড় পকেটে নিয়ে ঘুরলেই কাটবে সব ‘দোষ’। পেশায় গৃহশিক্ষক সেই ‘রক্তবস্ত্র’ জোগাড় করতে গিয়ে নিজের ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। এই পকসো মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়ে বিস্মিত তদন্তকারীরা। সোমবার ওই তান্ত্রিককে গ্রেফতার করেছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ ।

পুলিশ সূত্রে খবর, সপ্তাহখানেক আগে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানায় এক নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয় গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে। সেই শিক্ষককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে যে তথ্য পেয়েছে পুলিশ, তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর।

সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত জানান, তাঁর বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও পাত্রী জুটছিল না। এর পর বেলিয়াতোড় থানার বাসিন্দা এক তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তান্ত্রিক জানান, ‘দোষ’ কাটাতে হবে। সেই দোষ কাটানোর অদ্ভুত পন্থা মানতে গিয়েই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন রক্তিম।

রবিবার সন্ধ্যায় মাঝিপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত তান্ত্রিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ধৃতকে বিষ্ণুপুর আদালতে তোলা হয়।

আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ধৃত তান্ত্রিক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কোনও দিন ধর্ষণে প্ররোচনা দেওয়ার কাজ করিনি। আমাকে বিনা দোষে ফাঁসানো হয়েছে।”

বাঁকুড়া জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “ধৃত তান্ত্রিককে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।”

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ