আন্তর্জাতিক 

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে বাংলাদেশের বরিশাল, কক্সবাজার কার্যত লন্ডভন্ড, কমপক্ষে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : সপ্তাহ খানেক ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাংলাদেশের বরিশালের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদে প্রকাশ। এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বরিশাল সংলগ্ন এলাকার কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেছে।

ভারতীয় সময়, সোমবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে এটি ল্যান্ডফল সম্পূর্ণ করেছে বাংলাদেশের সুন্দরবনে। সাইক্লোন সিত্রাং মূলত ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতিতে এবং সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে আছড়ে পড়েছে। বরিশালের কাছে তিনকোনা আইল্যান্ড ও সন্দীপ আইল্যান্ডের উপর দিয়ে ঝড় বয়েছে।

Advertisement

৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই এক্ষেত্রে দমকল দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি মনিটরিং সেল কার্যকর করা হয়। ঢাকা, কুমিল্লার দৌলতখানের নাগলকোট এবং ভোলার চরফ্যাসন এবং নড়াইলের লোহাগড়া প্রবল ঝড়বৃষ্টি ও বিধ্বংসী ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে।সোমবারই ঝড় আসার আগে বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূল থেকে হাজার হাজার মানুষ ও গবাদিপশুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কক্সবাজার উপকূল থেকে অন্তত ২৮,১৫৫ জন মানুষ এবং ২৭৩৬টি গবাদিপশুকে সরিয়ে নিয়ে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। মোট ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা ছিল।

যেকোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য কমপক্ষে ১০৪টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৩২৩ টন চাল, লক্ষাধিক টাকা, ১১৯৮টি শুকনো খাবারের প্যাকেট, ৩৫০টি বাক্সে কেক এবং ৪০০টি বাক্সে ডাইজেস্টিভ বিস্কুট সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তার পরেই এই ঘূর্ণিঝড় শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপ রূপে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়েছে। সাইক্লোন থেকে শক্তি কমে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে সেটি। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন আরও উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে আরও দুর্বল হবে এই নিম্নচাপ। পশ্চিমবঙ্গে ঝড়ের প্রভাব তেমন ছিল না। এমনই জানিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর৷

তবে আজ, মঙ্গলবার থেকেই শুষ্ক আবহাওয়া। বাংলাদেশ লাগোয়া উপকূলের জেলাতে হালকা বৃষ্টিপাত হওয়ার সামান্য সম্ভবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা। তবে সমুদ্র আজও উত্তাল থাকবে। দুপুর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ