কলকাতা বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

আব্দুল মান্নানের ষোলোটি গল্প খাঁটি বাঙালির বাঙালিয়ানার ষোলো কলায় পূর্ণ: ড. সুরঞ্জন মিদ্দে

শেয়ার করুন

সংবাদদাতা বাংলার জনরব: গল্পকার সেখ আব্দুল মান্নানের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘সময়ের সংলাপ’ এর ষোলোটি গল্প খাঁটি বাঙালির বাঙালিয়ানার ষোলো কলায় পূর্ণ। কথাগুলি গত ২৩ অক্টোবর ২২ সন্ধ্যায় নিউজ পোর্টাল ‘বাংলার জনরব’ আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে বলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন মিদ্দে। তিনি আরও বলেন মান্নানের গল্পে কঠোর বাস্তবতার ছবি আছে। মান্নানের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘সময়ের সংলাপ’ এর গল্পগুলি একুশ শতকের তৃতীয় দশকে বাংলা ছোটগল্পের এক নতুন সংযোজন। প্রতিটি গল্পই অকৃত্রিম, আন্তরিকতা, অর্থনীতি ও মনস্তাত্ত্বিকতায় পরিপূর্ণ। দু হাজার বাইশ সালে মান্নানের গল্পগুলি বাংলা ছোটগল্পে ব্যতিক্রমী মাত্রা বহন করে। মান্নান কেবল স্টোরি টেলার নন, গল্প পাঠের পর তিনি পাঠককে ভাবাতে বাধ্য করান। অর্থাৎ তাঁর গল্প যেখানে শেষ হয় ঠিক সেখান থেকেই ‌গল্পের বিষয় নিয়ে পাঠক ভাবতে শুরু করে। এটা মান্নানের ছোটগল্পের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ রাজশাহী থেকে সাহিত্যিক মঈন শেখ, গুয়াহাটি থেকে বিশিষ্ট সাহিত্যবোদ্ধা অজিত কুমার সেন এবং হুগলি ধনিয়াখালির জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক জারিফুল হক।

Advertisement

বাংলার জনরবের সম্মানীয় সম্পাদক সেখ ইবাদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সাহিত্য আলোচনা সভায় আব্দুল মান্নানের গল্পগ্রন্থ ‘সময়ের সংলাপ’ সম্পর্কে নিজের মতামত পোষন করতে গিয়ে লেখক মান্নানের পরিবর্তে প্রথমে মানুষ মান্নানকে বিশ্লেষণ করেন অজিত কুমার সেন। মান্নান সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে তিনি উল্লেখ করেন আব্দুল মান্নান একজন নিরঅহঙ্কার, সদালাপী, সচেতন, অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব। তিনি মান্নানের গল্পগ্রন্থের প্রথম গল্প ‘নানী আসমান তারা’ সম্পর্কে বলেন মান্নানের গল্পের ভেতর দিয়ে তিনি তাঁর শৈশব কৈশোরের গ্রাম্য জীবনকে খুঁজে পেয়েছেন। বিশেষ করে ইসলামের রীতিনীতি মোতাবেক একজন মৃত ব্যক্তিকে কিভাবে সমাধিস্থ করা হয় ‘ নানী আসমান তারা’ গল্পে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণে তিনি আপ্লুত। গল্পের মুখ্য চরিত্র নাতি নাসেরের মৃত নানী সম্পর্কে যে প্রগাঢ় আনুগত্য ও নাতি নানীর যে অপত্য সম্পর্ক তার নিখুঁত ছবি পরিস্ফুট হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একজন অমুসলিম হয়েও গল্পের অন্তর্নিহিত ভাবনায় তিনি আপ্লুত বলে ব্যক্ত করেন।

আলোচক অজিত কুমার সেন ব্যক্তি মান্নান এবং লেখক মান্নানকে যেভাবে বিশ্লেষণ করেছেন তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করে বাংলাদেশের সুসাহিত্যিক মঈন শেখ বলেন আব্দুল মান্নানের গল্পে যে দিকগুলো তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে তা হলো গল্পে আঞ্চলিক ভাষার সফল প্রয়োগ ও চমৎকার সমকালীনতা। তাঁর গল্পগুলি পড়তে পড়তে মনে হয়েছে লেখক মান্নান গল্পের বিষয়বস্তু জানলা দিয়ে দেখেন না, সদর দরজা দিয়ে দেখেন। তাঁর গল্পের সহজ সরল কথা ও বিষয় বিন্যাস পাঠকের মনে গেঁথে যায়। তিনি গ্রন্থের ‘মিছিল’ গল্পের আলোচনা প্রসঙ্গে সমরেশ বসুর ‘বিটিরোডের ধারে’ গল্পের মুখ্য চরিত্রের সাজুয্য ও তুল্যমূল্য বিশ্লেষণ করেন।

এই সময়ের পশ্চিমবঙ্গের তরুণ ঔপন্যাসিকদের মধ্যে অন্যতম জারিফুল হক আব্দুল মান্নানের গল্পগ্রন্থ ‘সময়ের সংলাপ’ এর আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন সেখ আব্দুল মান্নান লেখক মান্নানের পাশাপাশি তিনি তাঁর কাছে ব্যক্তি মান্নান হিসেবে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন লেখক মান্নান অতি সাধারণ ঘটনাকে লেখার মুন্সিয়ানায় সার্থক ছোটগল্পে রূপ দিয়ে তাঁর পারদর্শিতার ছাপ রেখেছেন প্রায় প্রতিটি গল্পে। তিনি মনে করেন মান্নান সাহেব চাইলে প্রতিটি গল্পকে আরও কল্পনা এবং বর্ণনার সংমিশ্রণে গল্প আরও বড় করতে পারতেন। তাতে তাঁর গল্পগ্রন্থের সংখ্যা হয়ত আরও বাড়তে পারত। তাঁর অধিকাংশ গল্পেই উপন্যাসের পটভূমি লুকিয়ে রয়েছে। তাঁর গল্প বলার ভাষা একেবারেই আটপৌরে। তিনি কখনও ধার করা ভাষা ব্যবহার করেননি। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা এবং চারপাশে মানুষের মুখের ভাষাকেই গল্পের ভাষার রূপ দিয়েছেন। এটা তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব।

অনুষ্ঠান সঞ্চালক ইবাদুল ইসলাম বলেন বাংলার জনরবের সাহিত্য সম্পাদক সেখ আব্দুল মান্নানের গল্প তাঁর ভালো লাগে। কেন কি মান্নান সাহেব তাঁর অধিকাংশ গল্পেই গ্রামের খেটে মানুষের কথা বলেন। তাঁর গল্পের মধ্যে নিজেকেও খুঁজে পাওয়া যায়। এটাই তাঁর গল্পের সার্থকতা।

 

 

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ