‘‘যদি দরকার হয়, হাত কেটে নাও। গলা নামিয়ে দাও। সবচেয়ে বেশি তোমার জেল হবে। কিন্তু এই সমস্ত লোককে উচিত শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে। বেছে বেছে মারো।’’ রাজধানী দিল্লি শহরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক সভায় প্রকাশ্যে হুমকি ও ঘৃণা ভাষণ দিলেন বক্তারা
বাংলার জনরব ডেস্ক : আবারো হুমকি ঘৃণা ভাষণ দেওয়া হলো প্রকাশ্য সভায়। প্রকাশ্য সভার শুধু তাই নয় রাজধানী দিল্লি শহরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভায় বক্তারা প্রকাশ্যে হুমকি দিলেন হাত কেটে নেওয়ার গলা নামিয়ে দেওয়ার এবং বন্দুক রাখার কথা বললেন। এক কথায় গণতান্ত্রিক দেশে যেটা কল্পনা করা যায় না সেই কাজটা খুব রাজধানী শহরে দাঁড়িয়ে সরাসরি একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করে কথা বলা হলো। যদিও সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কোন সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এ কথা বলা হয়নি, যারা জেহাদী তাদের উদ্দেশ্যে কথা বলে বলা হয়েছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন জগৎ গুরু যোগেশ্বর আচার্য বলেন, ‘‘যদি দরকার হয়, হাত কেটে নাও। গলা নামিয়ে দাও। সবচেয়ে বেশি তোমার জেল হবে। কিন্তু এই সমস্ত লোককে উচিত শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে। বেছে বেছে মারো।’’
এই সভাতেই অন্য এক বক্তা, মহন্ত নওলকিশোর দাস মানুষকে লাইসেন্সের পরোয়া না করে বন্দুক রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘‘বন্দুক জোগাড় করুন। যদি লাইসেন্স না থাকে তা হলে ভয় পাবেন না। যাঁরা আপনাকে খুন করতে আসবে, তাঁদের হাতে কি লাইসেন্স করা রিভলবার থাকবে? তা হলে আপনার কেন লাইসেন্স লাগবে?’’ তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে এর পর তিনি বলেন, ‘‘আমরা যদি সবাই একজোট হই, তা হলে দিল্লি পুলিশের কমিশনারও আমাদের ডেকে চা খাওয়াবেন এবং আমরা যেটা করতে চাই তা করতে দেবেন।’’
কেন এই ধরনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ঘৃণা ভাষণ? এই প্রশ্নের জবাবে অবশ্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র বিনোদ বনসল জানান, এটি একটি ‘জন আক্রোশ সভা’। যা যা বলা হয়েছে তা সবই জেহাদিদের বিরুদ্ধে। কোনও একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করে কিছু বলা হয়নি। মানুষ রেগে আছেন। ওঁরা যা বলতে চেয়েছেন তা হল, জেহাদিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে মানুষ নিজেরাই আত্মরক্ষা করবেন।
প্রসঙ্গত, ক’দিন আগে দিল্লিতে ২৫ বছরের এক তরুণের মৃত্যু হয়। তাঁকে খুন করা হয়েছে এই অভিযোগ তোলে হিন্দুত্ববাদীদের একটি অংশ। যদিও খুনের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনও সম্পর্ক নেই বলে শুরু থেকেই দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণের ফোন চুরি গিয়েছিল এক বছর আগে। থানায় তার অভিযোগও জানিয়েছিলেন ওই তরুণ। সেই অভিযোগ তুলে নিতেই কয়েক জন তাঁর উপরে হামলা করেন। পুলিশ মনে করছে, হামলাকারীরা সকলেই মোবাইল ছিনতাইবাজের পরিচিত।
উল্লেখ্য ঘৃণা ভাষণ নিয়ে এর আগে সুপ্রিম কোর্ট করা ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে সরকারকে। তারপরেও দিল্লির মতো রাজধানী শহরে যেভাবে ঘৃণা- ভাষণ ছড়ানো হলো এবং হাত কেটে নেওয়া ও গলা নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হলো তাতে দিল্লি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

